স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: প্রয়াত হলেন বাঁকুড়ার প্রবীণ সাংবাদিক ও কমিউনিষ্ট নেতা শ্যামাপদ চৌধুরী। তাঁর মৃত্যুতে জেলা সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাংবাদিক সংগঠন গুলির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গুলির পক্ষ থেকেও তাঁর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করা হয়েছে।

বাংলা ১৩৩২ সালের ২৬ কার্তিক বাঁকুড়ার তিলুড়ি গ্রামে শ্যামাপদ চৌধুরীর জন্ম। একেবারে ছোটোবেলা থেকেই তিনি ভাদ, টুসু গান লিখে গ্রামীণ প্রান্তিক মানুষের প্রাণের কথা মনের কথা ফুটিয়ে তুলতেন। এক সময় নিজের গ্রাম তিলুড়িতে নওজোয়ান সংঘ ও পল্লী উন্নয়ন সমিতি গঠন করে যুবকদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করেন৷

সেই সময়ই তিনি অভিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। পাশাপাশি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের হাত ধরে ছাত্র জীবনেই বাঁকুড়ায় কিশোর বাহিনী গড়ে তোলেন। রুখা সুখা বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার মাটির নীচে ও ওপরে যে খনিজ ও বনজ সম্পদ রয়েছে তার বানিজ্যিক সম্ভাবনাকে তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে অসংখ্য লেখার মাধ্যমে তুলে ধরে দামোদর নদের দক্ষিণ তীরে শিল্প স্থাপনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি।

এক সময় দৈনিক স্বাধীনতা, যুগান্তর, বসুমতী ও কালান্তর পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। পাশাপাশি অসংখ্য ছোট বড় নিয়মিত লিখেছেন। এক সময় নিজ সম্পাদনায় বাঁকুড়া থেকে প্রকাশ করছেন ‘রাঢ় বাঁকুড়া’ নামে পাক্ষিক সংবাদপত্র। গ্রামের কৃষক, ক্ষেতমজুর ও বেকার যুবকদের সংগঠিত করে উত্তর পশ্চিম বাঁকুড়ায় গণ আন্দোলনের তিনি অন্যতম মুখ ছিলেন।

বাঁকুড়া জেলার সাংবাদিকদের একত্রিত করে ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাব গঠনে তিনি অন্যতম ভূমিকা নিয়েছিলেন। অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হয়ে আমৃত্যু সিপিআই এর সদস্য ছিলেন। শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে অগণিত গুণমুগ্ধ মানুষ তাঁর বাসভবনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

আরও পড়ুন : মোদী দুর্নীতিবাজ প্রধানমন্ত্রী: মমতা

বিধায়ক শম্পা দরিপা, পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত, জেলা প্রেস ক্লাবের সম্পাদক সন্তোষ ভট্টাচার্য, জাতীয় ক্রীড়া ও শক্তি সংঘের সম্পাদক রবীন মণ্ডল, সিপিআইয়ের এর জেলা সম্পাদক সর্বাণী সিংহ প্রমুখ তাঁর মরদেহে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রাক্তন মন্ত্রী ও সিপিএম নেতা পার্থ দে কলকাতা থেকে টেলিফোনে শোক সন্তপ্ত পরিবারের সাথে কথা বলে সমবেদনা জানান।

দুপুরে তাঁর মরদেহ বাঁকুড়া জেলা প্রেস ক্লাবের কার্যালয় রামানন্দ স্মৃতি ভবনে নিয়ে আসা হলে সেখানে ক্লাবের সভাপতি সুনীল দাস ও জেলার অন্য সাংবাদিকরা সহ স্থানীয় মানুষ তাঁর ফুল মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে স্থানীয় শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।