স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দমদম লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী কে হতে চলেছেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে৷ কলকাতা শহরের উপকণ্ঠা দমদম লোকসভা কেন্দ্রটি ছিল এক সময় লালদূর্গ৷ বর্তমানে তা তৃণমূলের দখলে৷ ওই কেন্দ্রে এবার গেরুয়া আবীর ছড়িয়ে দিত বদ্ধপরিকর বিজেপি৷

রাজ্য বিজেপি সূত্র যা খবর, দমদম কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলের ভিতরেই একটি চোরা স্রোত বয়ে গিয়েছে৷ প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্তের নাম শোনা গিয়েছে৷ প্রবীন এই সাংবাদিক নাকি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রতিনিধি৷ তবে প্রার্থী হিসাবে তাঁর নির্বাচন যে ঐক্যমতের ভিত্তিতে হবে এমন ভাবনার কোনও কারণ নেই৷

বিজেপির অন্দরেই রন্তিদেবকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ বলা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা পোড়খাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৌগত রায়কে হারাতে হলে দলকে অন্যভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে৷ কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই ওই জায়গায় প্রার্থী করা উচিত৷

আরও পড়ুন : বিজেপির দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়ার প্রতিবাদে থানা ঘেরাও

বিজেপির অন্দরে আরও খবর, রন্তিদেব প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বেশ সিরিয়াস৷ তিনি দলের থেকে দমদম লোকসভা কেন্দ্রে টিকিট প্রত্যাশা করছেল৷ কিন্তু তার প্রার্থীপদ পাওয়ার সমস্ত বিষয়টিই উড়িয়ে দিয়েছেন রন্তিদেব৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই জল্পনা বন্ধ হোক৷ আমি লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছি না৷ সঙ্ঘের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে আমি যুক্ত আছি৷ সঙ্ঘ আমাকে এখুনি ছাড়বে না৷ আমার দায়িত্ব রয়েছে৷’’

বিজেপির প্রার্থীপদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রায় হয়েই গিয়েছে৷ বৃহস্পতিবার রাতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ সহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব৷ উপস্থিত ছিলেন সহ পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন৷

গত কয়েকদিনে, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন – বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরা এবং ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং৷ এর আগে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন৷ সিপিএমের বিধায়ক খগেন মুর্মু এবং কংগ্রেসের বিধায়ক দুলাল বর ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ অন্যদল থেকে বিজেপি-তে লোক যত বাড়ছে, মুকুল রায় তত হুঙ্কার দিচ্ছেন – সিনেমার সবে ট্রলর হয়েছে, পুরো সিনেমাটাই বাকি আছে৷

আরও পড়ুন : আজ’ই ফেব্রুয়ারি’র বেতন পাচ্ছেন বিএসএলএন কর্মীরা

যা খবর, বৃহস্পতিবারের পর থেকে প্রার্থী নিয়ে বিজেপির অন্দরে কোনও ক্ষোভ থাকবে না৷ রাজ্য বিজেপি একপ্রকার তালিকা চূড়ান্ত করেই কেন্দ্রীয় পার্টিতে জানাবে৷ এর আগে মুকুল রায় অনেক বার বলেছেন, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার বিষয়ে কেন্দ্রীয় পার্টিই সিদ্ধান্ত নেবে৷ এক্ষেত্রে রাজ্যে পার্টির গুরুত্ব নেহাতই নগণ্য৷ কোনও নেতা কী সুপারিশ করেছে, তা কেন্দ্রীয় সংসদীয় দল দেখবে৷