হাওড়া: ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘মঙ্গল’ যাত্রা করল মুম্বইয়ের উদ্দেশে৷ ২০০৮ সালে এই জাহাজ তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল হাওড়ার শালিমার ওয়ার্কস লিমিটেডকে। দশ বছরের মাথায় বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর এই জাহাজ তুলে দেওয়া হল নৌবাহিনীর হাতে। এদিন এই জাহাজের পথচলা শুরু হল৷ ছিলেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷

এই জাহাজ সাপোর্টিং ভেসেল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ২৫০জন বহন করার ক্ষমতাসম্পন্ন এই জাহাজ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারবে ভারতীয় নৌবাহিনী৷ এই জাহাজ যখন তৈরির জন্য শালিমারকে বরাত দেওয়া হয়েছিল তখন এর আনুমানিক খরচ ধার্য করা হয়েছিল প্রায় ১৭ কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেই খরচ বেড়ে প্রায় ২৫ কোটিতে এসে পৌঁছেছে৷ নৌবাহিনী সূত্রে খবর, আগামী ন’দিনে ২৩৫০ নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিয়ে জাহাজটি পৌঁছবে মুম্বই বন্দরে৷

এদিন ‘মঙ্গল’ যাত্রায় শুভেন্দু ছাড়াও ছিলেন শালিমার ওয়ার্কস লিমিটেডের এমডি সোমদেব চট্টোপাধ্যায়-সহ নৌবাহিনীর আধিকারিকরা৷ পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘‘আমাদের বাংলার ইঞ্জিনিয়রদের কোয়ালিটি আছে। এবং সংস্থাগুলি যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে চালানো যায় তাহলে এরকম ভালো কাজ করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর হাওড়ার শালিমার ওয়ার্কস অনেকগুলো ভালো কাজ করেছে। এখানে যে বাঙালি ইঞ্জিনিয়ররা রয়েছেন তাঁরা প্রশংসার যোগ্য৷ ভারতের গৌরব নেভি। এই নিয়ে তারা দশটি জাহাজ ডেলিভারি নিল৷ সত্যি সম্মানের৷’’

এরপরই পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘‘ট্রান্সপোর্টে ভালো লগ্নি হচ্ছে। কয়েকদিন আগে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার ইনভেসমেন্ট লঞ্চিং করলাম আমরা। আমাদের ওয়াল্ড ব্যাঙ্কের সঙ্গে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এটা করতে পারলে অনেকগুলো বেনিফিট হবে। ট্রান্সপোর্ট সেক্টরকে আরও গতিশীল করার কাজ আমরা করছি। শালিমার ওয়ার্কস আগে যে অবস্থায় ছিল সেটা অনেকটা আমরা কাটিয়ে এসেছি। তবে নেভির সঙ্গে আমাদের কিছুটা অর্থনৈতিক সমস্যা আছে। কিছুটা লোকসান হচ্ছে। ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার সময় এবং সাপ্লাই নেওয়ার সময় দামের তফাৎ হচ্ছে। সেটা একটা ইকোনমিক্যাল প্রবলেম।’’

এরইমধ্যে শুভেন্দু জানান, ‘‘আমরা বুধবার একটা বৈঠক করেছি৷ আগামী শনিবার থেকে তারাতলা, ঠাকুরপুকুর, হরিদেবপুর, জোকা ও বেহালায় অতিরিক্ত ৩০টি ছোটো বাস দেব। তবে এই মাঝেরহাট ব্রিজ ভাঙার পর সুযোগ নিয়ে রাতের দিকে অটোতে কেউ কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে। আমরা ফ্লাইং স্কোয়াড করে দিয়েছি। সরকারি বাসের সার্ভিস টাইম বাড়ানো হচ্ছে। আগামী তিন মাসের জন্য এটা করা হচ্ছে। আশা করছি কোনও সমস্যা হবে না।’’