স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: কেন্দ্রীয় সরকার যখন রাজ্যের কৃষির উন্নয়ন খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করার কথা বলছে। তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষিদফতরের কাঁথি মহকুমা অভিযোজন গবেষণা কেন্দ্র যা ‘সরদা কৃষি ফার্ম’ নামে পরিচিত। তা নিজেই কোমায় রয়েছে।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আর,কে ভি, ওয়াই প্রকল্পে বীজ সংশোধনাগার,শোধনকৃত উন্নত বীজের গোডাউন, কর্মীদের আবাসন,সারের গোডাউন এবং অভিযোজনের পরীক্ষাগার সহ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সবই এখন পরিত্যক্ত ও পোড়ো বাড়িতে রূপান্তরিত হয়েছে।

জানা গিয়েছে, কোনও রকমে কিছু জায়গায় এখন আমন ও বোরো ধানের চাষ হয়। তাও আবার সেইসব জায়গা ঘাস ও আগাছায় পরিপূর্ণ। রান্নাঘর সহ পুকুর ও আশপাশে মদের বোতলের ছড়াছড়ি। রাসায়নিক সারের গোডাউনে বস্তা ছিন্নভিন্ন অবস্থায় গড়াগড়ি খাচ্ছে। শুধু তাই নয় সারে জলে মিশে একাকার অবস্থা হয়ে রয়েছে।

আগে এখানে চৌদ্দজন অস্থায়ী ও বেশকিছুজন ক্যাজুয়াল কর্মী ছিলেন। তাঁদের অবসর নেওয়ার পর এই ফার্মের বর্তমান কর্মী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন মাত্র পাঁচজন। সেই সঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে পাঁচজন চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে নিযুক্ত করা হয়েছে এই গবেষণা কেন্দ্রে।

জানা গিয়েছে, নিয়মিত এই গবেষণা কেন্দ্রে না এসেই তাঁরা বাড়ি বসে মাসে দশ হাজার টাকা পেয়ে যান। যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমেছে। এই অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ‘কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এখন অব্যবস্থা এবং দুর্নীতির আতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও এই ব্যাপারে কৃষি দফতরের কোনও প্রকার হেলদোল নেই বলেই জানান তাঁরা।

শুধু তাই নয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের এই অব্যবস্থার প্রতিকারের দাবীতে জেলাশাসক ও রাজ্য কৃষিদপ্তরের মুখ্য উপদেষ্টাকে ই-মেল বার্তা পাঠিয়েছেন প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি মামুদ হোসেন। মামুদ বাবু বলেন, ‘কাঁথি মহকুমার গর্বের কৃষি প্রতিষ্ঠানের এভাবে ধ্বংশ মেনে নেওয়া যায় না’। প্রতিষ্ঠানের রক্ষায় গণআন্দোলন ছাড়া আর কোনও বিকল্প পথ নেই বলে জানান তিনি। এখন শুধু স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকার এই বিষয়ে কবে দৃষ্টিপাত করবে সেইদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ