প্রতীকী ছবি

নয়া দিল্লি: খারাপ ব্যবহারের জন্য পুলিশি নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল এক হিন্দুত্ববাদী নেতার৷ মাস চারেক আগেকার ঘটনা৷ সেই সুরক্ষা ফিরে পেতে নিজের গাড়িতেই হামলা করালেন তামিলনাড়ুর এক নেতা৷ সেই নেতার ‘কাছের লোকজন’কে জেরা করেই সেই তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ৷ গোটাটাই পরিকল্পনা করে ঘটানো হয়েছিল৷

সম্প্রতি চেন্নাই থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে শোলাবরম হাইওয়েতে ঘটনাটি ঘটে৷ প্রশাসনসূত্রে খবর, স্থানীয় মিঞ্জুর-ভান্ডালুর আউটার রিং রোডে যাওয়ার সময় কালী কুমার নামে বছর ৪০-এর হনুমান সেনা নেতার গাড়িতে ক্রুড বোমা ফাটার ঘটনা ঘটে৷ কিন্তু চেন্নাই পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযোগকারীদের কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করে৷

এক পুলিশ অফিসারের কথায়, ‘‘আমাদের প্রথম থেকেই সন্দেহ হয়েছিল৷ আমরা বারবার বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের জেরা করতে শুরু করি৷ ফরেন্সিক এক্সপার্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা করেন৷ সেখানেও বেশ কিছু গণ্ডগোল নজরে আসে৷ এরপরই লাগাতার জেরায় নিজেদের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে তারা৷ তাদের নেতার পুলিশি নিরাপত্তার জন্যই এ কাণ্ড করেছে বলে জানায়৷’’

অভিযোগ, বন্ধু গণশেকড়ন ও বড় ভাইয়ের ছেলে রঞ্জিতের সাহায্যেই গাড়িটিকে পুড়িয়ে ফেলেন কালী কুমার৷ আসলে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে সকাল-সন্ধে ওঠাবসা দারুণ উপভোগ করতেন কালী৷ লোকজনের কাছে একটা আলাদা সমীহও পেতেন৷ সবসময় তাঁকে ঘিরে থাকত বন্দুকধারী পুলিশকর্মী৷ কিন্তু একবার নেশার ঘোরে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে সে৷ এরপরই তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আলগা করে দেওয়া হয়৷

লোহালক্কড়ের ব্যবসায়ী কালী কুমার হিন্দুবাদী নেতা হিসাবেও বেশ পরিচিত নাম৷ চেন্নাইয়ের পাশাপাশি হনুমান সেনার নেতাও তিনি৷ এ বিষয়ে হিন্দু মক্কাল কাতচির প্রতিষ্ঠাতা অর্জুন সম্পথ বলেন, এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা৷ হনুমান সেনার প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধরও এই ধরনের কার্যকলাপ সমর্থন করেন না৷