স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। মারণ ভাইরাস করোনার সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে করোনা সর্তকতার জেরে জনবহুল বাজার স্থানান্তরিত করে দৃষ্টান্ত তৈরি করল উওর ২৪ পরগণা জেলার ইছাপুরের আনন্দমঠ বাজার।

জানা গিয়েছে, লকডাউনের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনের নির্দেশেই ইছাপুরের আনন্দমঠ বাজারের স্থান পরিবর্তন করা হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বারংবার বার্তা দিচ্ছেন যারা কেনাকাটা করতে দোকানে বা বাজারে যাবেন, তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন ।

এদিকে, ইছাপুর আনন্দমঠে যে বাজার বসছিল, সেই বাজারের পরিসর খুবই ছোট। যারফলে সাধারন মানুষের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জিনিসপএ কিনতে অসুবিধা হচ্ছিল । সেই কারনেই, প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয় যে ইছাপুর আনন্দমঠ সবজী বাজার বসবে আনন্দমঠ স্কুলের মাঠে । শুধু মাছ বাজার পুরনো জায়গায় থাকছে । বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নতুন জায়গায় আনন্দমঠ স্কুলের মাঠে বড় পরিসরে বাজার বসায় সাধারন মানুষ অনেক নিরাপদে বাজার করতে পারছেন ।

কেনাকাটা করতে গিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যেমন দূরত্ব বজায় থাকছে, তেমনি ক্রেতারাও দূরত্ব বজায় রেখে সবজী কিনতে পারছেন। প্রশাসনের সিদ্ধান্তে খুশী স্থানীয় বাসিন্দারা সকলেই। এই বিষয়ে নোয়াপাড়া শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি প্রসূন সরকার বলেন, “জমায়েত এড়াতে উত্তর বারাকপুর পুরসভার সঙ্গে কথা বলে বাজারের স্থান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাছ বাজার পুরনো জায়গায় থাকছে। সবজী বাজার আনন্দমঠ স্কুলের মাঠে বসছে। ফলে মানুষের আর বাজার করতে সমস্যা নেই । দূরত্ব বজায় রেখে মানুষ বাজার করছে ।”

ক্রেতা রঘুবীর চন্দ বলেন, “এটা খুব ভালো উদ্যোগ। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী যে কথাটা সকলকে বলছিলেন দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে, সেই উদ্যোগই নেওয়া হয়েছে এখানে। আমরা খুশি। এখন ফাঁকা জায়গার মধ্যে কেনাকাটা করতে পারছি।”

শুধু রঘুবীর চন্দ একা নন। স্থানীয় বাসিন্দারাও আনন্দমঠ বিদ্যাপীঠের এই উদ্যোগে যথেষ্ট সাড়া দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, যদি বাংলার বিভিন্ন বাজার কর্তৃপক্ষ এটিকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করেন এবং সেইমতো কাজও করেন, তবে সেটিই হবে মারণ এই ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।