কলকাতা: কথাতেই আছে মাছে-ভাতে বাঙালি। আর শারদীয়া উৎসবের কয়েকদিন তো বাঙালি বাড়িতে জমিয়ে রান্না হয় মাছ-মাংস। কিন্তু সেই বাঙালির উৎসবকে ঘিরেই এবার বিতর্ক। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে চোখ রাঙাচ্ছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। তাতেই ক্ষেপে গেল বাঙালিরা।

জনপ্রিয় রান্নার তেলের সংস্থা ‘ফরচুন ফুড’স-এর বিজ্ঞাপনকে ঘিরেই ছড়ায় বিতর্ক। দুর্গা পুজো উপলক্ষে তৈরি করা এই বিজ্ঞান ঘিরে অভিযোগ, এই বিজ্ঞাপন কিছু সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের চাপের মুখে ক্ষমাও চাইতে বাধ্য হয় ওই সংস্থা। আর সেই ঘটনাই মনে লেগেছে বাঙালির। বাঙালির এই উৎসবে তো খাওয়া-দাওয়াটাই হয় জমিয়ে। মাছ-মাংস তো মাস্ট। তাহলে ক্ষমা চাওয়া কেন? প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

আসলে সমস্যাটা হয়ে নবরাত্রিকে ঘিরে। একদিকে যেমন এইসময় বাঙালিরা শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোয় মেতে থাকেন, তেমনই ভারতের উত্তরের দিকে মানুষও এই সময় পালন করেন নবরাত্রি। এই সময় বেশিরভাগ মানুষই নিরামিষ খান, আবার কেউ কেউ ন’দিন ধরে সারাদিন নির্জলা উপোস করেন।

কিন্তু তেলের বিজ্ঞাপনে চিংড়ি, ইলিশ, মাংস কিছুই বাদ দেওয়া হয়নি। নবরাত্রির সময় এই ধরনের বিজ্ঞাপন নিয়ে তাই প্রশ্ন তোলে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। #BoycottFortuneFoods হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল সাইটে ওই বিজ্ঞাপনের বিরোধিতার ডাকও দেওয়া হয়। হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি ও সনাতন সংস্থা মূলত এই বিজ্ঞাপনটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। ট্যুইটে বলা হয়, দেশ জুড়ে হিন্দুরা মা দুর্গার পুজো করেন। অথচ নবরাত্রিতে সেই দুর্গা মায়ের পুজো চলার সময় কেন এমন বিজ্ঞাপন বানানো হল।

এরপরই ট্যুইট করে ক্ষমা চেয়ে নেয় ওই সংস্থা। তারা লেখে যে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্যান্য জায়গায় বিজ্ঞাপনটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাতে আবার ক্ষুব্ধ বাঙালি। ফরচুন কেন ক্ষমা চাইলে? কেন মেনে নিল যে দুর্গা পুজোয়া আমিষ খাওয়া যায় না? এসব প্রশ্ন তুলে বাঙালিরা এবার ফরচুন ফুড’সকে বয়কট করতে চাইছে।