হাওড়া : জেলার একমাত্র দ্বীপাঞ্চল ভাটোরা। রূপনারায়ণের তীরে এই ভাটোরার বুকেই বসত মুখার্জী ব্রাদার্সের আড্ডখানার আসর। আজ নয়,সে প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগের কথা। পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি আড্ডাখানায় চলত আলাপআলোচনার পর্ব।গ্রামে বাসন্তী পুজো হলেও সেভাবে দুর্গাপুজোর চল ছিলনা। তাই আড্ডাখানার আসর থেকেই এলো দুর্গাপুজো করার ভাবনা।সেই থেকেই ভাটোরার শিবতলা বাজারের অন্যতম বনেদী পরিবার মুখার্জীদের বাড়িতে শুরু হল মা দুর্গার আরাধনা। সেই আরাধনা আজও অটুট।

মুখার্জী পরিবার সূত্রে জানা যায়,তিন কর্তা বাঞ্চারাম বিদ্যাবাগীশের (বাঞ্চারাম,বিদ্যা ও বাগীশ) হাত ধরে এই পুজোর পথচলা শুরু।তারপর অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা এসেছে কিন্তু মুখার্জী বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসব আজও সমহিমায় সপ্রতিভ।বাড়ির সাথেই রয়েছে দুর্গামঞ্চ।সেখানেই প্রতিবছর দেবী পূজিত হন।পঞ্জিকা মতে ষষ্ঠীতে মা’য়ের বোধন হয়।তারপর সপ্তমী,অষ্টমী,নবমীতে বলিদান পর্ব চলে।সবশেষে দশমীতে বিসর্জন।এই চিরাচরিত প্রথা মেনেই প্রতিবারের মতোই এবারও পুজো হচ্ছে মুখার্জী বাড়ির ঠাকুর দালানে।পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা তাপস মুখার্জী বলেন,”আমাদের পুজোর বয়স প্রায় সাড়ে চারশো।ঝড়-ঝঞ্ঝা,বৃষ্টি,বন্যা কোনো কিছুতেই আমাদের পুজো বন্ধ তো দূরের কথা সমস্ত প্রথা মেনে আমাদের পুজো হয়েছে।তাই এবারও করোনা সম্পর্কিত বিধি মেনে সমস্ত রীতিনীতি পালিত হচ্ছে আমাদের বাড়িতে।”

এদিকে আজ অষ্টমী। করোনার কোপে এবার মহাষ্টমীর পুজোও মলীন। কার্যত দর্শক শূন্য মণ্ডপেই চলছে সকাল থেকে শুরু হয়েছে মহাষ্টমীর পুজো। একাধিক বিধিতে সেকারণে কাটছাট করা হয়েছে। সেকারণেই এবার বাগবাজারে বীরাষ্টমীর লাঠিখেলাও বন্ধ। এই প্রথম এমন ছন্দপতন।

একশো বছর হয়ে গিয়েছে বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হরেক রকমের গল্পকথা আর ইতিহাস।
অষ্টমীর দিনটা বাগবাজারের পুজোয় ‘বীরাষ্টমী’। স্বাধীনতার আগে স্বদেশিরা অষ্টমীর সকালে এই পুজোর মাঠে লাঠিখেলা, ছুরি খেলা, কুস্তির মতো খেলা এখানে হত। সাহেবরাই শক্তিমান আর বাঙালি ভীরু। এই বিশ্বাস ভাঙতেই বীরাষ্টমীর উদ্‌যাপন করা হত। সেই ট্রাডিশন বজায় আছে এখনও। জানা গিয়েছে, তখন বীরাষ্টমীর দিন জনতার ভিড়ে মিশে যেতেন অনুশীলন সমিতির বিপ্লবী সদস্যরাও। যা শুরু করেছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু।

আজই হয় কুমারী পূজা। বেলুড় মঠে দুর্গাপুজো শুরু করেন স্বামী বিবেকানন্দ। সারদা দেবীর নামে দুর্গাপুজোর সঙ্কল্প করা হয়েছিল। সেই প্রথা মেনে এখনও চলছে সেই পুজো। প্রথম বর্ষেই ন’জন কুমারীকে একসঙ্গে পুজো করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাদের মধ্যে এক জনকে নিজের হাতে পুজো করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।