অভিষেক কোলে: খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে কেকেআর, রাজস্থান দু’দলই। সামান্য পদস্খলন মানেই প্লে-অফের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত। যদিও খাতায়-কলমে সম্ভাবনা জিইয়ে থাকবে বটে, তবে সমর্থকদের পক্ষে সেই আশায় বুক বাধা কঠিন হবে সন্দেহ নেই।

এই অবস্থায় ইডেনের মরণ-বাচন ম্যাচে ভাগ্য সঙ্গ দেয় রাজস্থান অধিনায়ক স্টিভ স্মিথকে। এমনিতেই চলতি আইপিএলে টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়াটা কার্যত রীতিতে পরিণত হয়েছে। তার উপর ইডেনের বাইশ গজে হালকা ঘাসের আস্তরণ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই টসে জিতে কেকেআরকে ব্যাট করতে ডাকার সিদ্ধান্ত নিতে দু’বার ভাবেননি স্মিথ।

আরও পড়ুন: অশ্বিনকে পাল্টা দিয়ে ‘বিরাট’ আগ্রাসনে উত্তাপ ছড়ালেন কোহলি

কেকেআরের মতো রাজস্থানও ম্যাচের প্রথম একাদশে জোড়া রদবদল করে। টার্নারের জায়গায় ওশান থমাসের আইপিএল অভিষেক তেমন চমকপ্রদ না হলেও ধবল কুলকার্নির বদলে বরুণ অ্যারনকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত রাজস্থানের কাছে ফলপ্রসু হয়ে দাঁড়ায়। এই ম্যাচের আগে এবারের আইপিএলে একটি মাত্র ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন অ্যারন। আরসিবির বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সেই ম্যাচে মাত্র এক ওভার বল করে ১৬ রান খরচ করেছিলেন তিনি। তারপরে আর প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি ঝাড়খণ্ডের মিডিয়াম পেসারের। অবশেষে ইডেন এসে শিকে ছেঁড়ে। পড়ে পাওয়া সুযোগ যথাযথ কাজে লাগান তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা রেখে শুধু দুরন্ত বোলিংই করেননি, ফিল্ডিংও করেছেন অত্যন্ত কার্যকরী।

আরও পড়ুন: ক্যাপ্টেনের স্বপ্নের ইনিংসে বড় রান নাইটদের

দুই ওপেনার ক্রিস লিন (০) ও শুভমন গিলকে (১৪) ক্লিন বোল্ড করা ছাড়াও অ্যারন অনবদ্য থ্রো’য়ে রানআউট করেন সুনীল নারিনকে (১১)। এছাড়াও ক্যাচ ধরেন নীতিশ রানার (২১)।

বরুণ অ্যারনের বোলিং যদি হয় ইডেনে রাজস্থানের ইতিবাচক দিক, তবে নেতিবাচক দিক অবশ্যই তাদের গ্রাউন্ড ফিল্ডিং। বিশেষ করে স্টুয়ার্ট বিনির একের পর এক মিস ফিল্ডিং একসময় হাস্যকর পর্যায়ে নেমে আসে। রাসেলের সহজ ক্যাচ ছাড়া থেকে শুরু করে পায়ের নীচ দিয়ে বাউন্ডারি গলানো পর্যন্ত কোনও কিছুতেই খামতি রাখেননি তিনি। অবশ্য একা বিনি নন, রাসেলের ক্যাচ ছাড়েন বরুণ অ্যারনের পরিবর্তে ফিল্ডিং করতে নামা প্রশান্ত চোপড়াও। বাউন্ডারি মিস করেন অজিঙ্কা রাহানে, শ্রেয়স গোপালরাও।

আরও পড়ুন: রয়্যালসের কাছে হেরে প্লে-অফের আশা কার্যত শেষ নাইটদের

রাসেল ব্যক্তিগত ৩ ও ১৩ রানে দু’বার জীবন দান পেয়েও বড় রানের ইনিংস গড়তে ব্যর্থ। তিনি ১৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন৷ দীনেশ কার্তিক একক প্রচেষ্টায় কলকাতাকে লড়াই করার রসদ এনে দেন। যদিও ব্যক্তিগত শতরানের দোরগোড়ায় থেমে যেতে হয় নাইট অধিনায়ককে। ডিকে ৭টি চার ও ৯টি ছক্কার সাহায্যে ৫০ বলে ৯৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। ব্রাথওয়েট ব্যর্থ (৫)৷ ৩ রানে নটআউট থাকেন রিঙ্কু সিং৷ কলকাতা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান তোলে। বরুণ অ্যারন ৪ ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ২০ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট দখল করেন।