বারাণসী: মঙ্গলবার গুরুপূর্ণিমার দিনেই হবে চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধে থেকে শুরু হয়ে মাঝরাত পর্যন্ত চলবে গ্রহণ। আর সেই কারণেই সময় বদলে গেল দশাশ্বমেধ ঘাটের আরতির।

প্রত্যেকদিন নিয়ম করে গঙ্গার আরতি হয় বারাণসীর এই ঘাটে। সেই আরতি দেখতে হাজির হন বহু মানুষ। কিন্তু মঙ্গলবার সেই সময় বদলে দেওয়া হয়েছে।

এদিন দুপুর ৩টেতেই হয়ে গিয়েছে আরতি। কারণ হিন্দু শাস্ত্র মতে, গ্রহণের সময় কোনও ধরনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করা যায় না। এমনকি বেশ কিছুক্ষণের জন্য মন্দিরের দরজাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই সন্ধের বদলে বিকেলেই গঙ্গা আরতি করে নেওয়া হয়েছে।

গত বছরও এরকম একট চন্দ্রগ্রহণে এগিয়ে এসেছিল আরতির সময়। রীতি ভেঙে দিনের আলোতেই আরতির প্রদীপ জ্বালানো হয়েছিল দশাশ্বমেধ ঘাটে। কারণ, সেদিন সন্ধেয় শুরু হয় চন্দ্রগ্রহণ। সেটাই ছিল শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ।

সেবার, দুপুর ১টা ৩০ নাগাদ শুরু হয় আরতি, চলে দুপুর ২তো পর্যন্ত। বহু দর্শনার্থী উপস্থিত হয়েছিলেন ঘাটে। গত দু’বছরে এই নিয়ে দু’বার এরকম ঘটনা ঘটলল চন্দ্রগ্রহণের জন্য দু’বারই সময় পরিবর্তন করতে হয়েছে।

জানা যাচ্ছে, ভারতে রাত ১টা ৩১ মিনিটে গ্রহণ শুরু হবে। ৪টে ২৯ মিনিটে চাঁদ সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যাবে। আবার ভোর ৫টা ৪৯ মিনিটে বেরিয়ে আসবে অন্ধকার থেকে। গ্রহণে সময় লাগবে মোট ৫ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট।

এটাই হবে এই বছরের সর্বশেষ চন্দ্রগ্রহণ। আবার আগামী বছরের জানুয়ারিতে গ্রহণ দেখা যাবে। সুতরাং সেই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার জন্য আনেকদিন অপেক্ষা করতে হবে।

জানা যাচ্ছে, ভারতের পাশাপাশি এই গ্রহণ দেখা যাবে বাংলাদেশেও। বুধবার বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪২ মিনিট ১২ সেকেন্ডে চন্দ্রগ্রহণটি শুরু হবে। যা শেষ হবে ভোর ৬টা ১৯ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে। আর সর্বোচ্চ চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশ থেকেও চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে বলে। চন্দ্রগ্রহণটি মূলত ভারত মহাসাগরে মরিশাসের পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে সেন্ট হেলেনা অ্যাসেনশিওন ও ত্রিস্তান দ্য কুনহা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক পর্যন্ত দেখা যাবে।