মুম্বই : আবারও শোকের ছায়া বলিউডে। ৯৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বলিউডের বর্ষীয়ান সঙ্গীত শিল্পী বনরাজ ভাটিয়া। বহু দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। শুক্রবার নিজের নাপিন সি রোডের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন নব্বয়োর্ধ বনরাজ ভাটিয়া (Vanraj Bhatia)।

প্রয়াত সুরকারের ঘনিষ্ট মহল থেকে জানা গিয়েছে, শেষ বয়সে চরম অর্থাভাবে ছিলেন তিনি। তাই অর্থের অভাবে নিজের সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেননি। আশির দশকের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক হওয়া সত্ত্বেও শেষ বয়সে তাকে ভুগতে হয়েছে অর্থাভাব। একের পর এক বিখ্যাত ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা দিয়েছিলেন তিনি। বনরাজের হিট লিস্টে রয়েছে অসংখ্য ছবি। শ্যাম বেনেগালের ‘অঙ্কুর’ (১৯৭৪) থেকে শুরু করে নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত জনপ্রিয় ছবি ‘জানে ভি দো ইয়ারো’ (১৯৮৩) ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা দিয়েছেন তিনি। অপর্ণা সেন পরিচালিত ছবি ‘৩৬ চৌরুঙ্গী লেন’ (১৯৮১) এর মত একাধিক বিখ্যাত ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তিনি। আশির দশকের জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালকদের তালিকায় নাম ছিল বনরাগ ভাটিয়ার। ১৯৮৮ সালে ‘তামাস’ ছবিটিতে সঙ্গীত পরিচালনার জন্যে জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৯ সালে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি সম্মানও পান তিনি। সম্প্রতি ২০২১ সালে তাকে প্রদান করা হয়েছে পদ্মশ্রী। এত সম্মান অর্জনের পরেও শেষ বয়সে অর্থাভাব আঁকড়ে ধরেছিল তাকে।

একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে প্রবীণ ভাটিয়া তার অর্থকষ্টের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও সামর্থের অভাবে নিজের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। এমনকি সংসার চালানোর জন্যেও ঘরের পুরনো আসবাব পত্র এবং জিনিস বিক্রি করতে হচ্ছিল। তাও বলিউডের থেকে কোন সাহায্য পাননি তিনি। সাহায্যের জন্যে এগিয়ে আসেননি কেউ। বিনা চিকিৎসায় পরলোক গমন করলেন এই জনপ্রিয় বর্ষীয়ান সঙ্গীত পরিচালক।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বলিউডের ফারহান আকতার, হানসাল মেহতা, জাভেদ আকতার, স্মৃতি ইরানি প্রমুখ। জাভেদ আকতার জানিয়েছেন, ‘আমরা সব সময় চেষ্টা করি আমাদের সঙ্গীত জগতের সকলকে প্রয়োজনে সাহায্য করতে। আমার কাছের বন্ধু বনরাজের শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পারা মাত্র তাকে সাহায্যের জন্যে একটি ত্রাণও গঠন করা হয়েছিল’।

IPRS এর হেড জভেদ আকতার জানিয়েছেন, ‘IPRS এর সদস্যদের যাতে ভবিষ্যতে অর্থের অভাবে ভুগতে না হয় তার জন্যে একটি ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। ভারতের সকল সঙ্গীত শিল্পীদের নিজের নাম এবং নিজের কাজ IPRS এ নথিভুক্ত করার জন্যে অনুরোধ করা হচ্ছে। যাতে শেষ জীবনে তারা সংস্থার তরফ থেকে অর্থিক সুরক্ষা পান’।

Attachments area

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.