ভ্যালেন্সিয়া: ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার বহু প্রচলিত বাংলা প্রবাদটি আংশিক সত্যি প্রমাণিত হল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ প্রি-কোয়ার্টার ম্যাচে৷ যদিও আক্ষরিত অর্থে ফাঁকা মাঠে নয়, বরং ফাঁকা গ্যালারিতে খেলা হল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ প্রি-কোয়ার্টার ম্যাচ৷একবার-দু’বার নয়, আটালান্টার জোসিপ ইলিচিচ চার বার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান দর্শকশূন্য মেস্তালা স্টেডিয়ামে৷

মূলত ইলিচিচের দুরন্ত হ্যাটট্রিকের সুবাদে ভ্যালেন্সিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে পরাজিত করে ইতালিয়ান দলটি৷ স্প্যানিশ ক্লাবকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়ে আটালান্টা পৌঁছে যায় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে৷

আরও পড়ুন: Breaking: বাগানে বসন্ত, আইলিগ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান

করোনা ভাইরাস নিয়ে স্পেন সরকারের কঠোর পদক্ষেপের জেরে ভ্যালেন্সিয়া বনাম আটালান্টা ম্যাচ খেলা হয় রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে৷ দু’দলের খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ, ম্যাচ অফিসিয়াল ও সম্প্রচারক সংস্থার ক্যামেরা ক্রু ছাড়া মাঠে দেখা যায়নি কাক-পক্ষীও৷ এমনকি ফুটবলারদের হাত ধরে মাঠে নামতে দেখা যায়নি বল কিডসদের৷ম্যাচের আগে হাত মিলিয়ে সৌজন্য বিনিময়ও করতে দেখা যায়নি দু’দলের ফুটলারদের৷

এমন অদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেখানে নিজেদের উদ্বুদ্ধ করাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ফুটবলারদের পক্ষে, সেখানে এমন উত্তেজক ফুটবল, সত্যিই অপ্রত্যাশিত ছিল৷ ভ্যালেন্সিয়ার পক্ষে কোয়ার্টারে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল৷ কারণ, তারা অ্যাওয়ে ম্যাচে ১-৪ গোলে পরাজিত হয়েছে আটালান্টার কাছে৷ তাই বলে হাল ছাড়েনি স্প্যানিস ক্লাবটি৷ হোম ম্যাচে জয়ের জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা করে তারা৷

আরও পড়ুন: মিথ ভাঙলেন কিবু, চাটুনি-সুব্রত-সঞ্জয়দের সঙ্গে একাসনে স্প্যানিশ বস

দু’বার পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে ম্যাচে সমতা ফেরায় ভ্যালেন্সিয়া৷ একসময় ৩-২ গোলে এগিয়েও যায় তারা৷ তবে ইলিচিচ শেষ মুহূর্তে উদ্ধার করে আটালান্টাকে৷ শেষমেশ ৩-৪ গোলে হার মানতে হয় ভ্যালেন্সিয়াকে৷ দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৮ ব্যবধানে পরাজিত হয় ভ্যালেন্সিয়া৷ কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ইতালিয়ান ক্লাব৷

ফিরতি লেগে দু’টি পেনাল্টিসহ আটালান্টার হয়ে দুই অর্ধে দু’টি করে মোট চারটি গোলই করেন ইলিচিচ৷ ম্যাচের ৩ ও ৪৩ মিনিটে স্পট কিক থেকে দু’টি গোল করেন জোসিপ৷ অপর দু’টি গোল করেন ৭১ ও ৮২ মিনিটে৷ ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে ২১ ও ৫১ মিনিটে জোড়া গোল করেন গামেইরো৷ ৬৭ মিনিটে গোল করেন ফেরান তোরেস৷

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব