স্টাফ রিপোর্টার, রায়গঞ্জ: বাঙালির বারো মাসে তোরো পার্বন৷ আর এই পার্বণকে বজায় রাখতেই দুর্গা পুজো ও কালী পুজোর পর আবারও পুজোর আনন্দে মেতে উঠবেন আপময় সাধারণ মানুষ৷ আগামী মঙ্গলবার ছট পুজায় মেতে উঠবে হিন্দি ভাষী মানুষেরা। তাই এখন বৈশ্য পাড়ায় ব্যস্ততা তুঙ্গে৷ কারণ ওই পাড়ায় চলছে বাঁশ দিয়ে ডালি ও কুলা তৈরি৷

বাঙালীর প্রধান উৎসব দুর্গা পুজো৷ তেমনি হিন্দি ভাষী সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব ছট পুজো। বর্তমানে এই পুজো আর হিন্দি ভাষী সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই৷ এখন আপাময় বাঙালী সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষেরা নিজেদের পরিবারের মঙ্গল কামনায় এই পুজোয় ব্রতী হন। ভাগবত পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারতের মতো বিভিন্ন গ্রন্থে সূর্যের উপাসনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

আরও কিছু অন্যান্য মতে ছট হল ষষ্টির অপভ্রংশ। কার্তিক মাসের অমাবস্যার পরের ষষ্টিতে ছট পুজোর ব্রত পালন করা হয়। আরেক মতে সূর্য আর ষষ্টি হল ভাই বোন। সেই কারণেই ছটকে ছট্টি মাইয়া বলা হয়। এই পুজো করা হয় বিকেলে অস্ত যাওয়া সূর্য ও পরের দিন উদীয়মান সূর্যকে। এই ছট পুজোর প্রধান উপকরণের মধ্যে অন্যতম হল বাঁশের তৈরি উপাচার সাজানোর কুলা ও ডালা। আর সেই কারণে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের অনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন দাশিয়ার বৈশ্য পাড়ার শিল্পীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।

বড় থেকে ছোট ও মহিলা, পুরুষ সকলে মিলে কুলো ও ডালা বানাতে ব্যস্ত। সারা বছর বিভিন্ন ধরণের কাজ করলেও একটু বেশি উপার্জনের আশায় বছরের কয়েকটি দিন কুলা ও ডালা তৈরি করেন গ্রামের বেশির ভাগ পরিবার৷ তাদের এই তৈরি ডালা ও কুলা শুধু কালিয়াগঞ্জের হাটে বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই৷ বৈশ্য পাড়ার শিল্পীদের হাতের তৈরি কুলা ও ডালা পাড়ি দিচ্ছে পাশের রাজ্য বিহার সহ বিভিন্ন জেলাগুলিতেও।

শিল্পীরা জানিয়েছেন, বংশ পরম্পরায় এই কাজ তাঁরা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ তাঁদের হাতের তৈরি সামগ্রী খোলা বাজারে কুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও ডালা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কিছু ক্ষেত্রে পাইকারিও বিক্রি হয়৷ তাঁদের সাহায্য করতে পড়া শোনার ফাঁকে তাদের সাহায্য করে স্কুল কলেজের পড়ুয়ারাও।