নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাসের টিকা আবিস্কার করে নয়া ইতিহাস গড়ার মুখে ভারত। যারফলে মারণ করোনার প্রতিষেধক আবিস্কারের দৌড়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়েছে আমাদের দেশের গবেষকরা।

চলতি বছর জুলাই মাসেই হায়দরাবাদের কোম্পানি ‘ভারত বায়োটেকের’ তৈরি ‘কোভ্যাক্সিন’ টিকার মানব দেহে ট্রায়াল শুরু হবে। চলবে দু দফায় এই পরীক্ষা। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং ডিসিজিআই-এর ছাড়পত্রও মিলেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালেই বাজারে চলে আসতে পারে কোভ্যাক্সিন।

তবে আইসিএমআর-এর আগামী আগস্ট মাস থেকেই এই টিকাকে বাজারজাত করার বা মানবদেহে সরাসরি প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কিত বিশেষজ্ঞ মহল।

এই বিষয়ে বেশিরভাগ বিজ্ঞানীদের দাবি, যেকোনও রোগের ক্ষেত্রেই প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাক্সিন আবিস্কার করতে অন্তত কয়েক মাস এবং কয়েক বছর লেগে যায়। সেক্ষেত্রে এত তাড়াতাড়ি কোনওরকম উচ্চপর্যায়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই করোনা প্রতিষেধক ব্যবহার জনগণের উপর হিতে বিপরীত প্রভাব ফেলতেও পারে।

এদিকে শুক্রবারই ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ জানিয়েছে যে, ১৫ আগস্টের মধ্যে প্রথম কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন চালু করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

করোনার প্রতিষেধক হিসেবে ওই একই দিনে আমেদাবাদের কোম্পানি ‘জাইডাস ক্যাডিলা’ জানায় যে,তাদের কোম্পানির তৈরি টিকা মানবদেহে ফেজ-১ এবং ফেজ-২ এর ক্লিনিক্যালি পরীক্ষার জন্য ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার (ডিসিজিআই)অনুমোদন পেয়েছে।

এই বিষয়ে ডিবিটি ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্সের বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্টট শাহিদ জামিল একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সুরক্ষা, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কার্যকারিতা নির্ণয়ের জন্য চার সপ্তাহের মধ্যে একটি ভ্যাকসিনের দ্রুত পরীক্ষা করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “ইমিউনোজিনিটি হল অ্যান্টিজেনের মতো একটি বিশেষ পদার্থ। যা কোনও মানুষ বা অন্য প্রাণীদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।”

এই বিষয়ে আরও এক প্রখ্যাত ভাইরোলজিস্ট উপসনা রায় বলেন,”করোনাভাইরাসের মতো মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি ভ্যাকসিন চালু হওয়া খুবই জরুরি। এই বিষয়ে প্রতিষেধক আবিস্কারক সংস্থা অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। তবে আমরা খুব দ্রুত এগোচ্ছি কিনা সেটি জানা এবং বিষয়টির প্রতি খেয়াল রাখাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।”

কলকাতার সিএসআইআর-আইআইসিবি-র উচ্চপদস্থ এক বিজ্ঞানী এদিন সংবাদ সংস্থা ‘পিটিআইকে’ বলেন, “আমাদের সকলকে অবশ্যই সাবধানে এগোতে হবে। আর এই প্রকল্পের অগ্রাধিকার দেওয়াটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনও বিষয়ে অতিরিক্ত চাপ জনসাধারণের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে।”

এদিকে করোনার ভ্যাক্সিন ব্যবহারের প্রসঙ্গে আইসিএমআর জানিয়েছে, হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (এনআইভি) এর সহযোগিতায় তৈরি কোভাক্সিনের জন্য ১২ টি ক্লিনিকাল ট্রায়াল সাইট চিহ্নিত করা হয়েছে। ৭ জুলাইয়ের পর থেকে এগুলির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হবে।

এই বিষয়ে আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব দেশের ১২টি ক্লিনিক্যাল সাইটের প্রধানদের একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, সমস্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ করে ১৫ আগস্টের মধ্যে জনগণের ব্যবহারের জন্য কোভ্যাকসিন চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।”

আর এই চিঠির পাওয়ার পরই উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানী মহল। যেখানে কোনও ভ্যাকসিন আবিস্কার করতে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৮ মাস আবার কখনও কয়েক বছর পর‍্যন্ত সময় লাগতে পারে। সেখানে অতিদ্রুত করোনার প্রতিষেধক আবিস্কারের বিষয়টি যথেষ্ট ভাবাছে গবেষক মণ্ডলীদের।

জানা গিয়েছে, ভ্যাকসিন তৈরি একটি মাল্টি-ফেজ প্রক্রিয়া। যেখানে প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালগুলি ছোটো হয়। সেইসময় সাধারণত অল্পকিছু অংশগ্রহণকারীর উপর এই ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয় এবং দেখা হয় যে, এই ভ্যাকসিনটি মানুষের জন্য নিরাপদ কিনা তা।

এরপর দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় কয়েকশো মানুষের উপর ভ্যাকসিনটির প্রয়োগ ঘটিয়ে এর কার্যকারিতাটি মূল্যায়ণ করা হয়। এবং

চূড়ান্ত পর্যায়ে কয়েক হাজার লোকের উপর একটি নির্ধারিত সময়ে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। আর এই শেষধাপের পরীক্ষা সম্পূর্ন হতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর লেগে যায় ফলে এত অল্প সময়ের মধ্যে ভ্যাক্সিনের ক্লিনিক্যালি ট্রায়ালের সমস্ত প্রয়োজনীয় পক্রিয়া গুলি সম্পন্ন হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। যারফলে এত অল্প সময়ের মধ্যে কোনও ওষুধ ব্যবহারের সুরক্ষা বিধি হিসেবে ক্লিনিক্যাল স্টাডি শেষ না করেই তা মানবদেহে প্রয়োগের বিষয়টি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। আর যা নিয়ে বেজায় শঙ্কিত বিশেষজ্ঞ মহল।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ