ভারতের এক অদ্ভুত রহস্যে ভরা দ্বীপের নাম রূপকুণ্ড। সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কয়েক’শ নরকঙ্কাল। সেসব কোথা থেকে এল, তা নিয়ে রয়েছে বহু গল্প। তবে সম্প্রতি এক গবেষায় উঠে এল একেবারে ভিন্ন তথ্য। জিন পরীক্ষা করে জানার চেষ্টা হয়েছে কোথা থেকে এল এই নরকঙ্কাল।

জানা গিয়েছে, আজ থেকে অন্তত ২২০ বছর আগে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে রূপকুণ্ডে এসে মৃত্যু হয়েছিল এক দল ভিনদেশির। হ্রদের মধ্যে পাওয়া কঙ্কাল নাকি তাদেরই।

গবেষণা বলছে, রূপকুণ্ডে পাওয়া হাড়গুলির মধ্যে বেশ কিছু অন্তত ২২০ বছরের পুরনো। কোনও এক অজানা কারণে সেই সময়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে এত দূরে ভারতের হিমালয়ের পার্বত্য এলাকায় এসে মৃত্যু হয়েছিল ওই বিদেশীদের। ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে সেই গবেষণা।

গবেষণায় আরও দাবি করা হয়েছে, রূপকুণ্ডে পাওয়া সব কঙ্কাল কোনও একটি নির্দিষ্ট সময়ের নয়। জিন-পরীক্ষাতে বেশ কিছু তফাত ধরা পড়েছে এদের মধ্যে। যা থেকে বিজ্ঞানীদের অনুমান, এরা সকলেই আলাদা-আলাদা গোষ্ঠীর। বিভিন্ন সময়ে রূপকুণ্ডের কাছে এসেছিলেন। দুটি আলাদা সময়ে এসে মৃত্য হয়েছিল তাদের। আর সেই দুটি সময়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান অন্তত হাজার বছর।

হায়দরাবাদের ‘সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি’-র কুমারস্বামী থঙ্গরাজ বলেন, ”একাধিক গোষ্ঠীর কঙ্কাল যে রয়েছে, সেটা আমরা প্রথম জানতে পারি ৭২টি কঙ্কালের মাইটোকনড্রিয়াল ডিএনএ পরীক্ষা করে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ডিএনএগুলির সঙ্গে বর্তমান ভারতের মানুষের সঙ্গে অনেক মিল। আবার কিছু ডিএনএ-র সঙ্গে পশ্চিম ইউরেশিয়ার জনগোষ্ঠীর মিল প্রচুর।” পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া কঙ্কালগুলিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথম ভাগের ২৩টি কঙ্কালের সঙ্গে ভারতের বর্তমান মানুষের জিনগত মিল পাওয়া গিয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে ১৪টি কঙ্কালের সঙ্গে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় এলাকার বাসিন্দাদের সাদৃশ্য রয়েছে। বিশেষ করে ক্রিট ও গ্রিসের। এবং শেষ তথা তৃতীয় ভাগের কঙ্কালগুলির সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাসিন্দাদের জিনগত মিল রয়েছে।”

উত্তরাখণ্ডে ১৬ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই হ্রদ। এখানে গেলে দেখা যাবে একটি হিমবাহ হ্রদ। সেই হ্রদের চারপাশে রয়েছে অসংখ্য নর কঙ্কাল। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে এই নর কঙ্কালগুলি ১২০০ থেকে ১৪০০ বছর আগের। একটা-দুটো নয়, প্রায় ৫০০-র বেশি নর কঙ্কাল দেখা যায় সেখানে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই নরকঙ্কাল গুলির গড় উচ্চতা হবে ১০ থেকে ১২ ফুট।