সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : তাঁর ছেড়ে দেওয়া চরিত্রেই বাংলায় ছবিতে অতি উত্তমের প্রবেশ। তিনি বললেন, এই ছবি তিনি করবেন না। পরিচালকের মাথায় হাত! কোথায় পাওয়া যায় এমন চরিত্রের জন্য হিরো? ঘুরে ফিরে ‘বসু পরিবার’ ছবিতে রোল পেলেন অরুন কুমার চট্টোপাধ্যায়। অর্থাৎ উত্তম কুমার।

বহু নাম পরিবর্তনের পর এই ছবিতে প্রথম উত্তমকুমার হিসাবে আত্মপ্রকাশ মহানায়কের। ছবি হিট। এরপরে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’। আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। কিন্তু যিনি রোল ছাড়লেন। তিনিই বা কম কোথায়? তিনি কালী ব্যানার্জি।

কালী ব্যানার্জীর ছেড়ে দেওয়া ‘বসু পরিবার’ এ নায়করূপে সুযোগ পেয়েছিলে উত্তমকুমার। সেটাই যেন তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। মহানায়কের প্রথম ছবি ‘দৃষ্টিদান’ (১৯৪৮)। এর আগেও ‘মায়াডোর’ নামে একটি ছবিতে তিনি কাজ করেছিলেন। কিন্তু সে ছবি কোনওদিন মুক্তিই পায়নি। ‘দৃষ্টিদান’ ছবির পর উত্তম কুমার আরও খান পাঁচেক ছবিতে কাজ করেছিলেন। সমস্ত ছবিই নাম লেখায় ফ্লপের খাতায়।

পড়ুন: শুভশ্রীর ফ্ল্যাট অ্যাবস দেখলে ঠিক থাকবেন তো

এই সময় কালে তিনি এক এক ছবিতে এক এক রকম নামে অভিনয় করেন। কখনও পিতৃদত্ত নাম অরুণ চট্টোপাধ্যায়, তো কখনও অরুণ কুমার। উত্তম চট্টোপাধ্যায় নামেও তি্নি অভিনয় করেছিলেন। কোনও নামেই ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর নাম হয়ে গিয়েছিল, ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’। ভাগ্য খুলল কালী ব্যানার্জির ছেড়ে দেওয়া ‘বসু পরিবার’ (১৯৫২) ছবিতে নায়কের চরিত্রে। ততদিনে ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ , ‘তথাপি’, ‘রত্নদ্বীপ’ ‘বরযাত্রী’ ছবিতে অভিনয় করে বিশাল নাম ডাক করে ফেলেছেন। প্রায় সমকালীন অরুণ তখনও লড়ে যাচ্ছেন। একসময় হাল ছেড়ে দিয়ে চাকরি জীবনে ফিরে গিয়েছিলেন উত্তম কুমার। ফিরে আসা কালী ব্যনার্জির ছেড়ে দেওয়া ছবি দিয়ে।

প্রখ্যাত অভিনেতা কালী ব্যানার্জীর প্রথম আত্মপ্রকাশ বর্মার পথে (১৯৪৭) সিনেমায়। খ্যাতিলাভ বরযাত্রী সিনেমায় ‘গনশা’র চরিত্রে অভিনয় করে। এরপরে ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘অযান্ত্রিক’, ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’, ‘বাদশা’, ‘ডাকহরকরা’, ‘পরশপাথর’, ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’, ‘নাগরিক’ ইত্যাদি ছবিতে তাঁর অভনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।

পড়ুন: জনপ্রিয় অভিনেতার প্রয়াণে শোকের ছায়া বাংলায়

সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকের মতো খ্যাতনামা পরিচালকদের ছবিতে যেমন অভিনয় করেছেন তেমনই বাণিজ্যিক ছবি পরিচালকদের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন। ‘দাদার কীর্তি’, ‘গুরুদক্ষিণা’ এর মধ্যে অন্যতম। দরদী মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে বাঙালি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রিয় অভিনেতা হয়ে ওঠেন।

হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় হিন্দি চলচ্চিত্র বাবুর্চি (১৯৭২) তে অভিনয় করেছেন। চিত্র প্রযোজনাও করেছেন। পাশাপাশি যাত্রাপালা, মঞ্চাভিনয়ে তার অনন্য অভিনয় তাঁকে বাংলা অভিনয় জগতের কিংবদন্তীদের আসনে বসায়। দীর্ঘদিন চলচিত্র ও মঞ্চশিল্পীদের বিভিন্ন আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। ভারতীয় গণনাট্য সংঘের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ৫ই জুলাই,১৯৯৩ সালে তিনি উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌতে প্রয়াত হন।