স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ১৪ দিনের মাথায় উঠে গেল উস্থি শিক্ষকদের আন্দোলন। তবে গ্রেড-পে বৃদ্ধি নয়, অনশনকারীদের কথা ভেবেই আন্দোলন তুলে নিলেন উস্থি শিক্ষরা। শুক্রবার আন্দোলন তুলে নেওয়ার পর এমনটাই জানালেন সংগঠনের রাজ্য কোর কমিটির সদস্য চন্দন চট্টোপাধ্যায়।

পড়ুন: পয়লা অগস্ট থেকেই বর্ধিত বেতন পাবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশেনের আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবি, কেন্দ্রীয় হারে ৪২০০ টাকার গ্রেড-পে চালু করতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের যে ১৪ জন শিক্ষককে অনৈতিকভাবে বদলি করা হয়েছে, তাদের নিজ নিজ শিক্ষাক্ষেত্রে ফেরত আনতে হবে। এই দাবির সমর্থনে সল্টলেকের ওয়াই চ্যানেলের সামনে আন্দোলনে সামিল হন তাঁরা। প্রায় ২,৫০০ শিক্ষক-শিক্ষকা সামিল হন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন নামেন অনশন ধরনায়। অসুস্থও হয়ে পড়েন বেশ কিছু জন। বুধবার শিক্ষকদের ধরনা ১২ দিনে পড়ে।

এদিনই শিক্ষামন্ত্রী বিধানসভায় ঘোষণা করেন প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড-পে ৩,২০০ থেকে বাড়িয়ে ৩,৬০০ করে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার নজরুল মঞ্চে এই আশ্বাস কার্যকরী করার জন্য অর্থ দফতরের কাছে তদবির করবেন তিনি বলেও জানান। কিন্তু তাতেও বরফ গলে নি। আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষকরা। শুক্রবার রাজ্যপাল শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাবে অনুমোদন দেন। এদিন সকালেই সেই নির্দেশপত্র নিজের ফেসবুক পোস্টে শেয়ার করেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপরেই এদিন সন্ধ্যেয় আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন উস্থি সংগঠনের শিক্ষকরা। কিন্তু তাদের দাবি মত গ্রেড-পে বৃদ্ধি নয়, অনশনকারী শিক্ষকদের স্বাস্থ্যের অবনতির কথা মাথায় রেখেই অনশন তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংগঠনের রাজ্য কোর কমিটির সদস্য চন্দন চট্টোপাধ্যায়।

পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে বৈঠকে গ্রেড-পে বৃদ্ধির আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

এদিন চন্দনবাবু kolkata 24×7কে জানান, “আমাদের দাবি মত গ্রেড-পে বাড়ে নি। আমরা ৪২০০ চেয়েছিলাম কিন্তু করা হয়েছে ৩৬০০। তাই আমাদের প্রতিবাদ জারি থাকবে। উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে মামলা চলছে। গ্রেড-পে বৃদ্ধি নয়, অনশনকারীদের স্বাস্থ্যের অবনতির কথা মাথায় রেখেই অনশন তুলে নিলাম আমরা। তাছাড়া, যে ১৪ জন শিক্ষককে অনৈতিকভাবে বদলি করা হয়েছিল, তাদের নিজের জায়গায় ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাই আপাতত আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলাম।”

উল্লেখ্য, ৪২০০ টাকার গ্রেড-পে চালু করা সম্ভব নয় বলে আগেই জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তা করতে গেলে বাড়তি সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার কোটি টাকা লাগবে। এত টাকা রাজ্য সরকারের নেই।