স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কবিতাই হয়ে ওঠে একজন কবির প্রতিবাদের ভাষা। এই অস্থির সময়ে সাম্প্রদায়িক্তার বিরুদ্ধে সরব হলেন কবি সুবোধ সরকার। সম্প্রতি জোমাটোর অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করেন মধ্যপ্রদেশের এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির নাম অমিত শুক্লা। অর্ডার মাফিক খবার যখন দুয়ারে প্রস্তুত সেই মুহূর্তে ওই ব্যক্তির নজরে আসে ডেলিভারি বয় ধর্মে মুসলিম। তৎক্ষণাৎ নিজের অর্ডারটি বতিল করেন অমিত শুক্লা। এই ঘটনায় স্তম্ভিত নানা মহল।

শুধু তাই নয়, মুসলিম ডেলিভারি বয় পাঠানো হবে কেন জানতে চেয়ে জোমাটোর কাস্টোমার সার্ভিসে মেসেজ করেন অমিত। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, অহিন্দুর হাত থেকে খাবার গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়! তবে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জোমাটোর জবাবে খুশি অনেকেই। চরম হিন্দুত্ববাদী ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ওই ব্যক্তিকে জোমাটোর সাফ জানিয়ে দেয়, ‘খাবারের কোনও ধর্ম হয় না, খাবার নিজেই একটি ধর্ম’। খিদে পেলে খাবার শেষ করা বলে। খাবার কোন ধর্মের মানুষ পরিবেষণ করছে, সেটা বড় হতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে জোমাটো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অমিত শুক্লা নামের ওই ব্যক্তির বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়।

গোটা পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি ট্যুইট করেন। সেই ট্যুইটে বলা হয়েছে, “জোমাটোর একটি অর্ডার বাতিল করলাম। তারা আমার খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি অ-হিন্দু রাইডারকে দায়িত্ব দিয়েছিল। ওরা জানিয়েছে যে তারা চালক পরিবর্তন করতে পারবে না এবং টাকাও ফেরত দিতে পারবে না।” ঘটনাটি তাজ্জব করেছে বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি সুবোধ সরকারকে। তাঁর মতে, “কাস্টোমার বললেন অহিন্দুর হাত থেকে খাবার নেব না। এ কী শুনলাম?” তবে জোমাটোর জবাবে খুশি তিনিও।

সুবোধের মতে, “জোমাটো– একটি ফুড ডেলিভারি সংস্থা তারা যে পারল, মুখের ওপর বলে দিতে পারল, নেবেন না। সেটাই হয়ে উঠল আমাদের সবার কথা। সবার মনের কথা।” জোমাটোর এই জবাবকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন মুক্তমনা মানুষেরাও। ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে কবি সুবোধ সরকার নিজের ফেসবুক দেওয়ালে লেখেন দু’লাইনের কবিতা। তিনি লেখেন, “ভাতের পাশে লঙ্কা ডাল একটুখানি নুন/ খিদের কাছে ধর্ম লাগে, আপনারাই বলুন?” এই পংক্তির মধ্যে দিয়ে সমাজের কাছ এক বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর এই চাবুক-পংক্তি ধর্মান্ধ ব্যক্তিদের মুখের ওপর আস্ত একটা থাপ্পড় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।