ওয়াশিংটন: বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাশিয়ার তুলনায় তাদের অস্ত্র বিক্রি প্রায় ৫৮ শতাংশ বেশি৷ গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধের মত মানবতার বিরুদ্ধে অস্ত্রের ব্যবহার রুখতে অস্ত্রচুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জাতিসংঘ৷

এর ফলে এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অস্ত্র বিক্রয়কারী দেশগুলি খেয়াল রাখত তাদের বিক্রিত অস্ত্রের ব্যবহার কোনও ভাবে মানবতার বিরুদ্ধে যাতে না হয়৷ এই চুক্তি অনুসারে কোনও দেশের বিক্রয় করা অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে পড়ছে কিনা সেদিকেও নজর রাখতে হত৷ যদি তেমন কিছুর আশঙ্কা প্রকাশ পায় তবে রপ্তানিকারক দেশকেই অস্ত্র হস্তান্তর আটকাতে হয়৷

বিশ্বজুড়ে অস্ত্রের কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে ২০১৩ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৩০টি দেশ অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিতে সাক্ষর করে, যেটি আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি হিসেবেও বিবেচিত হয়৷ ইরান, সিরিয়া আর উত্তর কোরিয়া চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল৷ রাশিয়া ও চীনসহ ২৩ টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে৷ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি ওই চুক্তির পক্ষে ভোট দেয়৷

সেই সময় আশা করা হয়েছিল এই চুক্তির ফলে অস্ত্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা যাবে৷ পরের বছর ওই চুক্তি কার্যকর হয়৷ চুক্তি অনুযায়ী, অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশগুলিকে অস্ত্র বাণিজ্যের প্রতিবেদন জাতিসংঘকে দিতে হয় পাশাপাশি তাদের অস্ত্র কোন ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা সেটার মূল্যায়নও তাদেরকেই করতে হয়৷

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন থেকে বলা হয়, জাতিসংঘের ওই চুক্তি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে দেশের অস্ত্র আইনের দ্বিতীয় সংশোধনীর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ইন্ডিয়ানাপলিসে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আমাদের সাক্ষর ফিরিয়ে নিচ্ছি৷ আমার আমলে, আমরা কখনো কারো কাছে আমেরিকার সার্বভৌমত্ব সমর্পণ করব না৷ আমরা অস্ত্র আইনের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে আপনাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিদেশি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ করার অনুমতি কিছুতেই দেব না৷”

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে৷