ওয়াশিংটন: গোটা বিশ্ব ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ত্রস্ত। একাধিক দেশে পল্লা দিয়ে বেড়েছে এই ভাইরসে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতালি, ফ্রান্স, ইরান, জার্মানি সহ বেশ কয়েকটি দেশে ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলেছে এই ভাইরস। বাদ নেই আমেরিকাও। সে দেশেও ক্রমেই বাড়ছে এই ভাইরসে আক্রান্তের সংখ্যা। মঙ্গলবার সারাদিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ৭০০ জন। যা এখনও পর্যন্ত আমেরিকার মৃতের নিরিখে সর্বাধিক।

অর্থাৎ সমীক্ষা অনুসারে প্রতি দু মিনিটে মারা গিয়েছেন একজন করে। যার ফলে আতঙ্কিত সে দেশের মানুষজন। মোট মৃত্যুর অর্ধেক ঘটেছে নিউ ইয়র্ক শহরের কাছাকাছি জায়গাতেই। কারণ এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাস মহামারীর এপিসেন্টার নিউ ইয়র্ক। আর ওই শহরের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও ইতিমধ্যে ট্রাম্প সরকারের কাছে এই বিপর্যয় মোকাবিলার সাহায্য চেয়েছেন। যে হারে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে সে দেশে তা যথেষ্ট চিন্তার কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আর সেই কারণেই স্থানীয় প্রশাসন আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে।

এই মুহূর্তে আমাদের আগামী সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করে থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে সেখানে দাড়িয়ে আগামী সপ্তাহে এই সংক্রমণ এবং মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন ডে ব্লাসিও। এও জানিয়েছেন আগের সপ্তাহেই সেনার অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প গঠন করা হয়েছিল চিকিৎসার জন্য। আর তা তৈরি করা হয়েছিল বিল্লি জিয়েন ন্যাশানাল টেনিস সেন্টারের কাছে।

তিনি ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউসের কাছে অতিরিক্ত ১০০০ নার্স, ১৫০ চিকিৎসক এবং বেশ কিছু স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। যাতে কোনভাবে এই পরিস্থিতি আটকানো যায়। তবে এখনও পর্যন্ত তার কাছে কোন উত্তর আসে নি। তবে যে ভাবে ট্রাম্প সরকার এই মুহূর্তে পুরো বিষয়ের দিকে নজর রাখছেন সে দিক থেকে চেষ্টা করা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যে সে দেশে ৩৭০০ জনের বেশী মানুষ মারা গিয়েছেন এই ভাইরসের শিকার হয়ে। এছাড়া আমেরিকাতে ইতিমধ্যে ৩০ টির রাজ্যর বাসিন্দাদের নিজের ঘর থেকে বেরতে বারন করা হয়েছে। অর্থাৎ যাতে কোন ভাবেই এই ভাইরস আর ছড়িয়ে পড়তে না পকারে সেদিকে কড়া নজর রাখা হয়েছে। তা ছাড়া চিকিৎসকেরাও যাতে সংক্রমিত না হয়ে পরে তাও খেয়াল রাখা হচ্ছে। তবে যে হারে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে তা যথেষ্ট উদ্বেগের।