মস্কো ও তেহরান: পারস্য উপসাগরে পরপর কয়েকটি জাহাজে রহস্যজনক হামলার পিছনে জড়িত ইরান৷ এর জেরে সেখানে মোতায়েন হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী৷ এর ফলে ফের ঘাত প্রতিঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ এমনই প্রেক্ষিতে ইসলামিক দুনিয়াকে শান্তির বার্তা দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেটস মাইক পম্পেও৷ রুশ সফরে গিয়ে তিনি বলেছেন, তার দেশ ইরানের সাথে কোন যুদ্ধ চায় না। বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর৷ অন্যদিকে তেহরান থেকে ইরানের সর্বচ্চো ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই বার্তা দিয়েছেন ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনও যুদ্ধ হবেনা।

রমজান মাস চলছে৷ ইসলামিক বিশ্ব অপেক্ষায় ঈদ উৎসবে৷ সৌভ্রাতৃত্বের এই আবহে তীব্র কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে যুযুধান ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট- দুই রাষ্ট্রের তরফে শান্তির বার্তা দেওয়া হলেও পারস্য উপসাগর এলাকায় যুদ্ধের গরম হাওয়া থেকেই যাচ্ছে৷ সম্প্রতি এই এলাকায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর চারটি জাহাজে রহস্যজনক হামলা হয়৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এতে জড়িত ইরান বা ইরানের সমর্থিত কোন গোষ্ঠী। অবশ্য এই ধারণার পক্ষে কোন তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয় নি। এই ঘটনায় উপসাগরীয় এলাকায় তৈরি হয়েছে যুদ্ধের গরম হাওয়া৷

পড়ুন: বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধৃত জঙ্গিরা, নাশকতার ছক বানচাল

রাশিয়া সফররত মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেটস পম্পেও মস্কোতে জানান, আমেরিকা চায় ইরান যেন একটি ‘স্বাভাবিক দেশের’ মতো আচরণ করে। তবে আমেরিকার স্বার্থ আক্রান্ত হলে তারা সমুচিত জবাব দেবে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জানিয়েছেন- ইরানকে কেউ ভয় দেখানোর সাধ্য কারোর নেই।

বিবিসি জানাচ্ছে, সৌদি আরব ও আমিরশাহীর জাহাজে হামলার পরে গত সপ্তাহে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ জাহাজ এবং যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই ভূমিকার পরেই তেহরান পাল্টা তাদের নৌবাহিনীর মহড়া শুরু করে৷ বিখ্যাত হরমুজ প্রণালীতে আবারও গরম হাওয়া বইতে শুরু করে৷ এর ধাক্কা লেগেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানী তেল বাণিজ্যে৷

এরই মাঝে ইরানের অন্যতম কূটনৈতিক বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া সফর করছেন মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেটস৷ সফরকালে তিনি রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সাথে বৈঠক করেন। তার পরেই পম্পেও জানান, নীতিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে কোন যুদ্ধ চায়না। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়তোল্লা আলি খামেনেইয়ের বক্তব্য৷ বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যে পরমাণু চুক্তি বাতিল করেছেন সেটির বদলে ভিন্ন কোন চুক্তির বিষয়ে আমেরিকার সাথে কোনও আপোষ করবে না ইরান।এরপরেই খামেনেই বলেন, আমরা যুদ্ধ চাইনা, তারাও যুদ্ধ চায়না।