ওয়াশিংটনঃ  ফের পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতি আলোড়িত৷ আবারও রাসায়নিক হামলা নিয়ে সিরিয়া সরকারকে হুঁশিয়ারি আমেরিকার৷ গৃহযুদ্ধে প্রবল রক্তক্ষরণ হচ্ছে সিরিয়ায়৷ সেখানে সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছেই৷ আর এই সংঘর্ষে বারবার সরকারি সেনা কেমিক্যাল ওয়েপন প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ৷

বিবৃতিতে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, “আমরা ক্রমাগত এই ধরণের লক্ষণ প্রত্যক্ষ করছিলাম, সিরিয়া নিজেদের রাসায়নিক অস্ত্রশস্ত্রগুলি পুনঃনবীকরণ করছে। এমনকি গত ১৯ মে সকালে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে একটি ভয়াবহ ক্লোরিন হামলা হয়ে গিয়েছে সম্প্রতি।”

একাধিকবার এমন রাসায়নিক হামলায় সিরিয়ার সরকার বিরোধী গোষ্ঠীর দখলে থাকা এলাকায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷ সেই ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে দুনিয়া৷ বারবার অভিযোগের কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদকে৷ যদিও সিরিয়া সরকার সব অভিযোগ উড়িয়ে দেয় প্রতিবারই৷

সিরিয়ার বিশেষত উত্তর-পশ্চিম সীমান্তেই রয়েছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাই এই অঞ্চলেই মূলত হামলা চালিয়ে থাকে তারা। আর এই গোষ্ঠীর ওপর যাতে হামলা না হয়, তার বিরুদ্ধে বারবারই সিরিয়া সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার আরও একবার হামলার ছকের হদিশ পেয়ে সিরিয়া সরকারকে কড়া হুশিয়ারি দিল মার্কিন প্রশাসন।

বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, “আমরা এখনও ওই ঘটনার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করে চলেছি। কিন্তু আমরা ফের এ বিষয়ে আমাদের হুশিয়ারি জানিয়েছি। জানিয়েছি যে, ফের যদি হামলা হয় তবে এর যথাযোগ্য উত্তর খুব শীঘ্রই সিরিয়াকে আমেরিকা দেবে। ওয়াশিংটন এবিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায়। বলা হচ্ছে এই হামলার ছক কষেছেন সিরিয়ার প্রধান বাসার আল আসাদ।”

আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা বলছেন, ২০১১ সালে আসাদ বাহিনির ধারাবাহিক কেমিক্যাল হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, ৩৭০,০০০ জন। এছাড়া ২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর আসাদ সরকার এবং রাশিয়া সরকার উভয় স্থির করে তারা সিরিয়ার আলেপ্পো অঞ্চলে রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে হামলা করবে। সেই হামলার দায় চাপিয়ে দেবে বিরোধী গোষ্ঠীর ওপর।