নিউ ইয়র্ক: পৃথিবীর সবথেকে কাছের গ্রহ মঙ্গলে প্রাণের সন্ধান জারি আছে, অদূর ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু এক মার্কিন গবেষক যা বলছেন, তাতে নতুন তত্ত্ব সামনে আসছে। তিনি ছবি খুঁটিয়ে দেখে মঙ্গলের মাটিতে প্রাণের সন্ধান পেয়েছেন।

আমেরিকার ওহিও ইউনিভার্সিটির গবেষক উইলিয়াম রোমোজার কিছু ছবি প্রমাণ হিসেবে দেখিয়ে দাবি করেছেন, মঙ্গলে প্রাণ ছিল এবং আছে। পতঙ্গের মত কিছু প্রাণ জ্যান্ত এবং ফসিল হিসেবে গ্রহের পৃষ্ঠে ঘুরে-বেড়াচ্ছে বলে প্রমাণ দেখিয়েছেন তিনি।

রোমোজার বলেন, মঙ্গলে বসবাসকারী পতঙ্গদের মধ্যেও অনেক বৈচিত্র্য আছে। পতঙ্গগুলির পাখা কিংবা পায়ের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, মঙ্গলের বিভিন্ন যান বিশেষত ‘কিরিওসিটি’ রোভার মঙ্গলে প্রাণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ বহু ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে মঙ্গলে পতঙ্গ এবং সরীসৃপের মত কিছু আছে।

তাঁর দাবি, এমন অনেক ছবি আছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, কিছু ছোট ছোট জিনিস যার পা, শুঁড়, পাখা- এসব রয়েছে। অনেকটা মৌমাছির মত দেখতে পতঙ্গগুলিকে। ‌অন্য একটি জিনিসের সঙ্গে সাপের মিল রয়েছে।

মঙ্গলের প্রাণের দাবি করেছেন আরও এক বিজ্ঞানী। ১৯৭৬-এ মঙ্গলে একটি বাইকিং ল্যান্ডার পাঠিয়েছিল নাসা। সেইসময় প্রিন্সিপ্যাল ইনভেস্টিগেটর ছিলেন গিলবার্ট ভি লেভিন নামে এক বিজ্ঞানী। তিনি আবার সম্প্রতি আমেরিকার একটি জার্নালে ওই অভিযান সংক্রান্ত একটি আর্টিকল লেখেন। সেখানেই তিনি লিখেছেন, লাল গ্রহে প্রাণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল তখনই।

ওই পরীক্ষার নাম ছিল ‘লেবেলড রিলিজ।’ মূল মঙ্গলের মাটি পরীক্ষা করার জন্যই পাঠানো হয়েছিল ওই ল্যান্ডার। তখনই নাকি সব প্রশ্নের উত্তর মোটামুটিভাবে পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন লেভিন।

জানা গিয়েছে, ওই পরীক্ষায় মঙ্গলের মাটিতে কিছু পৌষ্টিক উপাদান পাওয়া গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, যদি মঙ্গলে প্রাণ থাকত তাহলে তারা খাবার খেয়ে বায়বীয় পদার্থ বর্জন করত, যা তাদের পরিপাকক্রিয়ার প্রমাণ দিত। সেই প্রমাণ নাকি তখন ওই ল্যান্ডারের রেডিওঅ্যাকটিভ মনিটরে পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই বিজ্ঞানী।

তাঁর দাবি, ওই মাটি নিয়ে নাসা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করে দেখেছিল। দু’বারই নাকি প্রাণের প্রমাণই উঠে এসেছিল। কিন্তু, নাসা ওই পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিলিপি তাদের ল্যাবরেটরিতে বের করতে পারেনি। তাই, সঠিক ফলাফল সামনে আসেনি শেষমেস।

গহ্বরের গায়ে লবণের পুরু ওই আস্তরণ দেখেই গবেষকরা মনে করছেন মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ দিচ্ছে ওই লবণের আস্তরণ। বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীর সঙ্গে মঙ্গলের জলবায়ু বৈচিত্রের বিশেষ ফারাক নেই। তাই পৃথিবীর মতোই লবণ জলের হ্রদ শুকিয়েছে মঙ্গলেও। কীভাবে তা পরিবর্তিত হয়েছে, তা জানতেই গবেষণার জন্য গেল ক্রেটারকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ