ওয়েশিংটন: ভারতের বিরুদ্ধে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহারের জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছিল আমেরিকা। বৃহস্পতিবার এমনই একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে এসেছে। শুধুমাত্র জঙ্গি দমনের জন্য বরাদ্দ এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অন্যায্য ভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল নয়াদিল্লি।

মার্কিন সংবাদসংস্থা ইউএস নিউজ এবং ওয়ার্ল্ড রিপোর্টে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই খবর অনুযায়ী এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহারের জন্য গত অগস্টেই পাক বায়ুসেনাপ্রধানকে একটি লিখিত ‘সতর্কবার্তা’ পাঠিয়েছিলেন মার্কিন প্রশাসনিক দফতরের তৎকালীন প্রধান আন্দ্রেয়া থমসন। যদিও ওই অভিযোগপত্রে চলতি বছরে ফেব্রুয়ারিতে ভারত-পাক বিমানযুদ্ধের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

চলতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় নিহত হন একাধিক সিআরপিএফ জওয়ান। এরপরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে যুদ্ধবিমান থেকে মিসাইল ছুঁড়ে বেশ কিছু জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেই সময় ভারতের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালাতে উড়ে আসে পাক যুদ্ধবিমান।

ভারতের তরফ থেকেও মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমান নিয়ে উড়ে যান উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। পাক যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সম্মুখ সমরে একটি এফ-১৬ বিমান তিনি ধ্বংস করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি সত্য বলে জানায় ভারতীয় বায়ুসেনাও।

ওই বিমান-যুদ্ধে অভিনন্দনের যুদ্ধবিমানও ধ্বংস হয়। পাক ভূখণ্ড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পাক সেনাবাহিনী। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে তাঁকে ভারতে প্রত্যর্পণ করে ইসলামাবাদ। কাশ্মীরের সীমান্ত অঞ্চল রাজৌরিতে এফ-১৬ বিমানের কিছু ধ্বংসাবশেষ দেখিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করে অন্যায়ভাবে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। যদিও এই ঘটনার দুই মাস পর এপ্রিলে ‘দ্য ফরেন পলিসি’ ম্যাগাজিন জানিয়েছিল, পাকিস্তানের কাছে সবকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৬ অক্ষত রয়েছে।

কিন্তু বৃহস্পতিবার এই রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে জল্পনা উসকে দেয় এই সংবাদমাধ্যম। এই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় চিঠি লেখেন থমসন। ওই চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘বিমানগুলিকে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে,সারাই করে তারপর তা ব্যবহার করা হোক।’

অবৈধ ভাবে জঙ্গি দমন ছাড়া এই যুদ্ধবিমান পাক-মার্কিন চুক্তির পরিপন্থী ওই চিঠিতে তাও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু থমসন চিঠিতে একবারের জন্যও ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের কথা উল্লেখ করেননি।