লন্ডন: আগে বলেছিলেন ‘ফ্যাসিস্ত’৷ জবাবে লন্ডনের মেয়রকে ‘হেরো লোক’ বলে তোপ দেগেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷ কিন্তু বিতর্কের ইতি সেখানেই নয়৷ থেমে না থেকে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ১১ বছরের বালকের সঙ্গে তুলনা করলেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান৷

প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার ইংল্যান্ডে গিয়েছেন ট্রাম্প। আর প্রথম সফরের শুরুতেই ইংরেজদের প্রিয় শহরের মেয়রের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন তিনি৷ লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছিলেন, “ক্রমশ বাড়তে থাকা বিশ্বজনীন বিপদের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবচেয়ে ভয়ঙ্কর উদাহরণ।” ট্রাম্পকে তিনি ‘বিশ শতকের ফাসিস্ত’ বলেও সমালোচনা করেন।

আরও পড়ুন: আদিম জীবনযাপন, ‘গাছ বাড়ি’ বানিয়ে গাছের সঙ্গে থাকছে ওরা

এতেই বেজায় চটে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। লন্ডনের মেয়রের এই ধরণের মন্তব্য একেবারেই অনভিপ্রেত বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসেডেন্ট। সাদিক খানের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ট্যুইট ট্রাম্প জানান, “লন্ডনের মেয়র হিসেবে সব দিক থেকেই খুব খারাপ কাজ করেছেন উনি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আসছেন শুনে বোকার মতো খারাপ ব্যবহার করে চলেছেন অথচ ব্রিটেন আমেরিকার অন্যতম মিত্র দেশ। উনি একেবারে হেরো একটা লোক। আমার দিকে নজর না দিয়ে লন্ডনের অপরাধ দমনের বিষয়টি খেয়াল করা উচিত ওঁর।”

দমে থাকার পাত্র নন রানির শহরের মহানাগরিক। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে সাদিক খান বলেন, “আমেরিকার সঙ্গে ব্রিটেনের সুসম্পর্ক রাখা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু তার জন্য ট্রাম্পকে অভিবাদন জানাতে ‘লাল কার্পেট বিছিয়ে দেওয়ার’ কোনও দরকার ছিল না।”

আরও পড়ুন: ফরাসি ওপেন: স্বপ্নের সেমিতে মুখোমুখি নাদাল-ফেডেরার

ঘটনার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই সদিক খানের সংযোজন, ‘‘ব্যক্তির পরিচয় তাঁর আচরণে৷ তাঁর জবাব দেওয়ার কোনও শিষ্টাচারই নেই৷’’ এই ধরণের ট্যুইটের প্রত্যুত্তর দেওয়া তাঁর রুচিতে বাঁধে৷ একজন ১১ বছরের ছেলে যে আচরণ করে প্রেসিডেন্টের আচরণ সে রকমই বলে মনে করেন লন্ডনের মেয়র৷

রবিবার রাতে ওয়াশিংটন থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠে সোমবার সকালে লন্ডন পৌঁছন সস্ত্রীক ট্রাম্প। তিনদিনের এই সফরে বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর জন্য হাজির ছিলেন বিদেশমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। সাদিকের মন্তব্যে বিব্রত ইংরেজরা৷ ব্রিটেনের বিদেশ মন্ত্রী সাংবাদিকদের আগেই জানিয়ে ছিলেন, ‘‘ধরে নিন হোয়াইট হাউসে উনি (সাদিক খান) আগামী দিনে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না।’’

এরপরও বিতর্ক থামেনি৷ যাঁকে নিশানা করে মন্তব্য, সেই ট্রাম্প কি ফের কোনও উত্তর দেবেন? নজর সেদিকেই৷