অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: কথায় আছে সাত সাগর আর তের নদীর পার৷ সেই পথ কতটা? অনেকটা এরকম হতে পারে দুই গোলার্ধ৷ সেই অন্য পার থেকে সটান কলকাতায় হাজির তাঁরা৷ বইমেলার টান কি কম কথা?

আমেরিকার বস্টন শহর থেকে শুধুমাত্র বইমেলার টানেই ছুটে এসেছেন একদা কলকাতাবাসী অলোকেশ দত্ত রায়। বইমেলার জন্য অতদূর থেকে বাংলায় ছুটে আসা এককথায় অবিশ্বাস্য। তাঁর কাছে জানা গেল গতবছর আসতে পারেননি তিনি। কিন্তু বইমেলার সময় প্রতিবারই কলকাতায় আসেন অলোকেশবাবু।

kolkata24x7.com-কে অলোকেশ দত্তরায় জানিয়েছেন– “বসবাসের ক্ষেত্রে আমার ঠিকানা অনেক দূরে হলেও আমার জীবনের ঠিকানা কলকাতা বইমেলা। বইমেলার ঠিকানা বদল হয়ে গেলেও আমার ভেতরের বইমেলার ঠিকানা বদল হয়নি। ৮০০০ মাইল ক্রস করে বইমেলার ছুটে আসি রক্তমাংসের অক্ষর আর মানুষের মুখ ছোঁয়ার জন্য।”

চলছে ৪২তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। এবারের বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে। শুরুর আগে জায়গাবদল ঘিরে নানা রকম জল্পনা ছিলই। নতুন জায়গায় পাঠক আসবে কিনা, বই বিক্রি হবে কিনা– তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন, বিশেষত ছোট প্রকাশকরা। ৩১ জানুয়ারি, বইমেলার প্রথম দিন জনসমাগম চোখে পড়ার মতো ছিল না। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাস পড়তেই লোকজন আসতে শুরু করেছে বইমেলায়। শুক্রবার উইক এন্ড শুরু হতেই ভিড় বাড়বে মেলায়, তাতে বই বিক্রিও বাড়বে। এমনই মনে করছেন আয়োজকরা।

পড়ুন: কলকাতার বই দিয়েই শুরু হয়েছিল ঢাকার অমর একুশে গ্রন্থমেলা

গতবছর মিলন মেলায়, বইমেলার মাঠে দেখা গিয়েছিল এক আশ্চর্য ছবি। কবিতার গাড়ি থেকে বাংলা বই কিনছেন আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেনিস। সাদা চুলের বিদেশি যুবককে বাংলা বই কিনতে দেখে চমকে গিয়েছিলেন অনেকে। এমন কিছু কিছু গল্প বইমেলার মাঠে ছড়িয়ে থাকে। সেরকমই এক ছোট গল্পের চরিত্র হয়ে থাকবেন অলকেশ বাবুর মতো কেউ কেউ৷ বাঙলার ১২ মাসের চৌদ্দ পার্বণ বলে কথা!!