হাভানা:  ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর কিউবার রাজধানী হাভানায় আবার তাদের দূতাবাস খুলেছে আমেরিকা । ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় আমেরিকা কিউবা থেকে তাদের কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

স্নায়ুযুদ্ধের এক চরম উত্তেজনাকর মূহুর্তে যুক্তরাষ্ট্রের একেবারে নাকের ডগায় কমিউনিষ্টরা যখন কিউবার ক্ষমতায় আসে, তার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম বৈরি সম্পর্ক। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হয়েছে দু দশকের বেশি আগে , কিন্তু তারপরও স্বাভাবিক হয়নি দুদেশের সম্পর্ক। কিন্তু গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ওবামা আর কিউবার নেতা রাউল কাস্ত্রো শেষ পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক বৈরিতার অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।

কিউবা গতমাসে ওয়াশিংটনে তাদের দূতাবাস খুলেছে। আর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে হাভানায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাসের দুয়ার খুলল। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী জন কেরির উপস্থিতিতে প্রাক্তন তিন মার্কিন মেরিন, ১৯৬১ সালে যারা এই দূতাবাসে মার্কিন পতাকা নামিয়েছিলেন শেষ বার, তারাই আজ আবার সেই পতাকা উত্তোলন করলেন। জন কেরি একে এক ঐতিহাসিক মূহুর্ত বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সেই সঙ্গে একথাও বলেছেন যে কিউবার রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রাখবে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে অতীতে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি কিউবায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়নি। তিনি বলেছেন, কিউবার ভবিষ্যত কিউবার জনগণই নির্ধারণ করবে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও কিউবা-মার্কিন সম্পর্কে এখনও অনেক সমস্যাই রয়ে গিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে জারি থাকা এই নিষেধাজ্ঞা কিউবার অর্থনীতিকে প্রায় পঙ্গু করে রেখেছে।