ওয়াশিংটন: করোনার কালবেলা চলছে গোটা বিশ্ব জুড়ে। মারণ এই ভাইরাসে কবলিত বিশ্বের প্রায় সবকটি মহাদেশই। পৃথিবী জুড়ে মৃতের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও। ছোঁয়াচে এই রোগ থাবা বসাছে আট থেকে আশি সকলেরই শরীরে।

চিন, ইতালি এবং ইরানের পর মারণ এই ভাইরাসের থাবায় সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হল আমেরিকা। আমেরিকার সাম্প্রতিক কালের ইতিহাসে সবথেকে কালো অধ্যায়ের নাম ছিলো ৯/১১, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং পেন্টাগনের ওপর হামলা। যে হামলায় প্রান হারিয়েছেন আমেরিকার ২৯৭৭ জন সাধারণ মানুষ। কিন্তু মঙ্গলবার পর‍্যন্ত নোভেল করোনাভাইরাসের আক্রমণ, ট্রাম্পের দেশে পেন্টাগন হামলার ইতিহাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।

মারণ এই ভাইরাসের থাবায় আমেরিকা জুড়ে মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৩৩৯৩ এর উপরে। যা চিনের মৃতের সংখ্যাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। ফলে চিন, ইতালি এবং ইরানের পর মার্কিন মুলুকে বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাগামছাড়া। দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা।

মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সে দেশের ৫০টি রাজ্যেই ধরা পড়েছে মারণ করোনার উপস্থিতি।

যে ভাবে ট্রাম্পের দেশে হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, তাতে সবাইকে ঘরের বাইরে বেরোতে মানা করছে মার্কিন প্রশাসন। কারন, এখনই এই ভাইরাসে বিরুদ্ধে লাগাম টানতে না পারলে, করোনাতঙ্কে মৃত এবং আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের অন্যান্য দেশকে ছাপিয়ে যেতে পারে আমেরিকা। তেমনটাই জানাছে গবেষণা। এমনকি করোনাভাইরাসের জন্মস্থান চিনকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে, বিষয়টিকে প্রথমে সেভাবে গুরুত্ব না দিলেও বর্তমান পরিস্থিতির জেরে শেষ পর‍্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশের মেয়াদ ৩০ এপ্রিল পর‍্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার অন্যান্য শহর গুলিতেও এই লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবুও তেমন কোনও আশার আলো দেখতে পাছে না আমেরিকা। এই অবস্থায় পৃথিবীর অন্য দেশগুলির মতোই মার্কিনদের ঘরের ভিতর থাকারই নিদান দিছেন ট্রাম্প।

প্রসঙ্গত, গত বছর ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে মারণ করোনা প্রথম ধরা পড়ে চিনে।তারপরে ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলেছে বিশ্বের সমস্ত দেশকেই। মারণ এই ভাইরাসের থাবায় গোটা বিশ্বজুড়ে এখনও পর‍্যন্ত সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা ৮ লক্ষ ৪৩ হাজারে পৌঁছে গিয়েছে। করোনার দাপটে গোটা পৃথিবীতে মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৩৯ হাজারের কাছে। ইতালিতে মঙ্গলবার পর‍্যন্ত প্রানহানি ঘটেছে ১১ হাজার ৫৯১ জনের। অন্যদিকে স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৮,১৯৮। মৃত্যু মিছিল অব্যাহত ইরানেও। ফলে পৃথিবীর এমন কঠিন অসুখ কবে সারবে তা এখনও অজানা সবার কাছে।