প্যারিস: তীব্র দাবদাহে পুড়ছে গোটা ইউরোপ। বেশ কয়েকটি দেশে বইছে তাপপ্রবাহ। অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে সেখানকার মানুষের জনজীবন। গোটা ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিজেদের কীভাবে শীতল রাখতে হবে স্থানীয় প্রশাসন সে বিষয়ে বিভিন্ন পরমার্শ ইস্যু করছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

জার্মানি, পোল্যান্ড ও চেক রিপাবলিক, এই তিনটি দেশে বুধবার জুন মাসের তাপমাত্রার সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। আগামী দিনগুলিতে গরম আরও বাড়ার পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। ফলে আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিন এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াতে অনেক রেকর্ডই ভাঙবে।

আজ বৃহস্পতিবার ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের তাপমাত্রা ৪০ সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এই অবস্থা যদি বজায় থাকে তাহলে ৪০ সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে যাবে। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে বয়ে আসা অত্যন্ত গরম বাতাসের কারণেই ইউরোপে এভাবে অস্বাভাবিক ভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে। তীব্র গরম জীবন সংশয়ের কারণ হতে পারে বলে ইতিমধ্যে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন ফ্রান্সের প্রশাসনিক প্রধানরা।

উল্লেখ্য,২০০৩ সালে আরেকটি তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়েছিল ফ্রান্স । ওই বছর তীব্র দাবদাহে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল। এই বছরও যেভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে তাতে বহু মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে ইতিমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। স্পেনে ইতিমধ্যে সরকারি আধিকারিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, তীব্র তাপদাহের কারণে বেশ কিছু এলাকায় দাবানলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বুধবার জার্মানির ব্রান্ডেনবুর্গের কশেন এলাকার তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৬ সেলসিয়াসে উঠেছিল। সে দেশে জুন মাসের জন্য এটি নতুন রেকর্ড। পোল্যান্ডের রাজিন ও চেক রিপাবলিকের ডোকসানিতে যথাক্রমে ৩৮ দশমিক ২ ও ৩৮ দশমিক ৯ পর্যন্ত পারদ উঠেছিল। দুটি দেশের জন্যই এটি নতুন জাতীয় রেকর্ড। ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি অংশেও স্থানীয় তাপমাত্রার সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। এমন কি আল্পস্ পবর্তের কোনও কোনও এলাকায়ও তাপমাত্রা ৩০ সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

আগামী সপ্তাহের প্রথমদিকে কোনও কোনও এলাকার তাপমাত্রা আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন আবহবিদরা। আগামিকাল শুক্রবার স্পেনের উত্তরপূর্বাঞ্চলের তাপমাত্রা ৪৫ সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন স্থানীয় আবহাওয়া দফতর। ফলে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অস্বাভাবিক এই গরমের কারণে ফ্রান্সের কিছু স্কুলে ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ভয়ঙ্কর হতে চলেছে ইউরোপের পরিস্থিতি।