এলাহবাদ: অযোধ্যা মামলার রায়ের পর থেকেই উচ্ছ্বসিত রাম মন্দিরের পক্ষে থাকা ভক্তরা। এরই মাঝে এক অভিনব উদ্যোগ শুরু করেছেন ‘রাম নাম ব্যাঙ্ক’ কর্তৃপক্ষ। ভক্তদের রাম নাম লেখা বুকলেট ব্যাঙ্কে জমা দিলেই মিলবে বিশেষ পুরস্কার, এমনই জানিয়েছিল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।

এলাহবাদের এই ব্যাঙ্কের কোনও এটিম বা চেক কোনও ব্যবস্থাই নেই। এই ব্যাঙ্কে নোট হিসাবে ব্যবহৃত হয় শুধুমাত্র ‘রামের নোট’। ইতিমধ্যেই এই ব্যাঙ্কের সদস্য সংখ্যা প্রায় এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

ব্যাঙ্কের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল ৯-১০ নভেম্বরের মধ্যরাত্রের ভিতর ভক্তদের এক লক্ষ পঁচিশ হাজার বার রাম নাম লিখলেই মিলবে বিশেষ পুরস্কার।

রাম নাম সেবা সংস্থানের সভাপতি আশুতোষ ভারসেনি, জানান ভক্তরা ভগবানের রামের নাম হাতে লিখে, কারুকার্য করা পাতায় টাইপ করে কিংবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেখেন তবে যতবার লিখবেন সেই সংখ্যা দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে।

এই প্রসঙ্গে আশুতোষবাবু জানান, ‘ভক্তেরা যদি একবার রাম নাম লেখেন তবে তা দুইবার লেখা হয়েছে বলে ধরা হবে। আর যারা ৯-১০ নভেম্বরের মধ্যে এক লক্ষ পঁচিশ হাজারবার রাম নাম লিখে ফেলেছেন তাঁদের বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।’

এই নাম লেখার অভিনব প্রতিযোগিতার জন্য দেওয়া হয়েছিল বুকলেটও।

তিনি আরও বলেন, ‘রাম নাম ব্যাঙ্ক একটি অলাভজনক সংস্থা। এই সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বুকলেট দেওয়া হয়। এই বুকলেটে ৩০টি পৃষ্ঠায় মোট ১০ ৮টি ঘর কাটা ছিল। ভক্তরা এই ঘরেই রাম নাম লিখেছেন। ১০ নভেম্বরেই আমরা পুরস্কার ঘোষণা করে দিয়েছিলাম।’

পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া প্রতিযোগীদের আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০-এর মাঘ মেলাতে এলাহবাদের সঙ্গমে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাম নাম ব্যাঙ্কের তরফ থেকে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। পুরস্কার হিসাবে তাঁরা পাবেন একটি সার্টিফিকেট, একটি শাল, এবং একটি ‘শ্রীফল’ অর্থাৎ বেল।

যে ভক্তরা এক কোটির লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে যেতে পারবে তাঁদেরকে এলাহবাদের সেক্টর ১ অক্ষয়ভট্ট মার্গের ব্যাঙ্ক ক্যাম্পে বিনামূল্যে থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হবে।

এই রাম নাম ব্যাঙ্কের তরফ থেকে আশুতোষ আরও বলেন, ‘ভগবান রামের নাম আমরা ব্যাঙ্কের প্রতিটি গ্রাহকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। অন্যান্য ব্যাঙ্কের মত পাসবুকও তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই সমস্ত পরিষেবাই বিনামূল্যে দেওয়া হবে। ব্যাঙ্কে কতজন গ্রাহক রয়েছেন তাঁর রেকর্ডও রাখছে ব্যাঙ্ক। এই ব্যাঙ্কে শুধুমাত্র রাম নামাঙ্কিত ‘নোট’ই গ্রহণীয় হবে।

এই ব্যাঙ্কের অপর প্রধান গুঞ্জন ভারসেনি পিটিআইকে জানান, ‘প্রায় ১২০০ জন ভক্তরা চলতি বছরের কুম্ভমেলায় রাম নাম লিখে ভগবান রামের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন নির্বিঘ্নে অয্যোধ্যা মামলা যেন মিটে যায়।’
দিল্লির নয়ডায় একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরতা আয়ুষি শুক্ল জানান, ‘এই বছর কুম্ভমেলার সময়ে রাম নাম লেখার জন্য আমরা সবার কাছে আর্জি জানিয়েছিলাম। ওই সময় আমি নিজেই প্রায় দশ হাজারবার রাম নাম লিখেছিলাম। আমি খুশি যে অযোধ্যা মামলার রায় মিটে গিয়েছে।’