প্রতীকি ছবি

লখনউ: তিন তালাক থেকে শুরু বধূ নির্যাতন, সাংবাদিক খুন সহ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসছে উত্তরপ্রদেশ। এবার যোগীরাজ্যে তিনতালাকের বিরোধিতা করায় জ্বলন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হল এক তরুণী গৃহবধূকে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ অগস্ট। উত্তরপ্রদেশের সারাবাস্তি জেলার গাদড়া গ্রামে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিনাগাপুর থানা এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার বাবা রমজান খান এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে গত ৬ তারিখ সন্ধ্যায় জামাই নাফেসের (২৬) বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ দায়ের করেন। রমজান খান জানিয়েছেন যে গত ৬ তারিখ তাঁর জামাই মুম্বই থেকে ফোন করে তাঁর মেয়েকে তালাক দিয়ে দেয়।

জানা গিয়েছে, সায়েদাকে তিন তালাক দেওয়া হলে সে থানায় যায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে। কিন্তু পুলিশ তার অভিযোগ না নিয়ে সেদিন তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। গত ১৫ অগস্ট নাফেস মুম্বই থেকে গ্রামে ফিরে এলে পুলিশ ফের তাদের দু’জনকে ডেকে পাঠায় থানাই এবং তাদের কে পুলিশ জানাই দুজনের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে।

এছাড়াও বিনাগাপুর থানার পুলিশের তরফে সেদিন সায়েদা কেউ তার স্বামীর সঙ্গে থাকতে বলা হয় বলে জানা গিয়েছে।

সেদিন সন্ধ্যাবেলায় ঠিক কি ঘটেছিল সায়েদার সাথে তা জানতে ঘটনার একমাত্র প্রতক্ষ্যদর্শী সায়েদার মেয়ে ফতেমা কে থানায় নিয়ে যাই তার ভাই রফিকুল।

পুলিশের কাছে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরার সময় সায়েদা-নাফেসের মেয়ে ফতেমা জানিয়েছে, ‘শুক্রবার দুপুরের নামাজ সেরে তার বাবা বাড়ি ফিরে মা(সায়েদা) কে বলে তোমাকে তিন তালাক দেওয়া হয়ে গিয়েছে। তুমি বাড়ি ছেঁড়ে চলে যাও।’

এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় ফতেমার সামনেই তার মা-বাবার বেশ কিছু সময় অশান্তিও হয়, ঠিক সেই সময়ে সেখানে এসে হাজির হয় ফতেমার দাদু আজিজউল্লাহ, ঠাকুমা হাসেনা এবং তার দুই জেঠি নাদিরা ও গূডীয়া ।

সায়েদার মেয়ে পুলিশকে আরও জানিয়েছে যে, এরপর সায়েদা কে তার বাবা চুলের মুঠি ধরে টানতে থাকে। সেই সময় তার দুই জেঠি মায়ের (সায়েদা) গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয় এবং তার দাদু ও ঠাকুমা সায়েদার গায়ে দেশলাই কাঠি জ্বালিয়ে ছুঁড়ে দেয়।’ পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার তদন্ত করতে দেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সায়েদার ভাই রফিকুল জানিয়েছে, তারা শুক্রবার পুলিশের কাছে নাফেসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

সারাবাস্তি জেলার পুলিশ সুপার আশিস শ্রীবাস্তব ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ কে জানিয়েছেন, সায়েদার পরিবারের পক্ষ থেকে নাফেস ও তার বাড়ির লোকের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন, তিন তালাক এবং জ্বলন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবে।