লখনউ: ফের ‘লাভজিহাদ’ উত্তরপ্রদেশে৷ তবে একটু অন্যরকম! বিয়ের ছয় বছর পর মহিলা জানতে পারেন তাঁর স্বামী হিন্দু নয়, মুসলিম৷ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে মহিলা জানিয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে হিন্দু ধর্মের বলেই পরিচয় দিয়ে বিয়ে করে৷ কিন্তু তার পরে মুসলিম রীতিনীতি মেনে চলার জন্য ওই মহিলার ওপর চাপ দিতে থাকে তার স্বামী৷ জোর করে তার ধর্মও পরিবর্তন করানো হয়৷ মহিলার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্তে নামে৷

মহিলার অভিযোগ, স্বামী হিন্দু এমনটাই জানতেন তিনি৷ ১০বছর আগে বিয়ে হয়েছিল তাদের৷ কিন্তু বিয়ের পর মীরাটে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন স্বামী মুসলিম ধর্মাবলম্বী৷ তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সকলেই তাকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিতে থাকে৷ অশান্তি শুরু হয়৷ বিচারের আশায় মহিলা দ্বারস্থ হয় সিনিয়র পুলিস সুপারিন্টেন্ডেন্টের৷

গত মাসে লখনউতেই লাভ জিহাদের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে৷  জানা যায়, কলেজের কাছে একটি অফিসের কর্মীর সঙ্গে আলাপ হয় এক তরুণীর। সেই আলাপ থেকেই প্রেম। এরপর বাড়তে থাকে ঘনিষ্ঠতা, হয় শারীরিক সম্পর্ক। তরুণী গর্ভবতী হয়ে পড়লে হরিদ্বারের মন্দিরে গিয়ে তারা বিয়েও করে।

এত কিছুর পরেও হিন্দু ধর্মাবলম্বী তরুণী জানতে পারেনি যে সে লাভ জিহাদের শিকার হয়েছে। যদিও বোঝার কোনও উপায়ও ছিল না। কারণ, প্রেমিক নিজেকে রাজ বিষ্ণোই বলে পরিচয় দিয়েছিল। নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করতে মন্দিরে গিয়ে পুজোও দিত।

বিয়ের পরে স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে না নিয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে রেখেছিল ওই যুবক। এভাবেই চলছিল। একসময় স্বামীর ধর্ম সম্পর্কে জানতে পারে ওই তরুণী। সে জানতে পারে রাজ বিষ্ণইয়ের আসল নাম সাফরাজ হোসেন। পরিস্থিতির চাপে সব মেনেও নিয়েছিল।

কিন্তু তাল কাটে গত বছরে যখন স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেল। অভিযোগ, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ওই তরুণীকে ইসলাম ধর্ম মতে বিয়ে করে অভিযুক্ত সফরাজ। তারপরে জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়। বাড়িতে মৌলবী ডেকে ধর্মান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী। ক্রমেই বাড়তে থাকে অত্যাচারের মাত্রা। একদিন সফরাজের ভাই তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছেন তরুণী।

ঘটনাটি ঘটে উত্তর প্রদেশের রামপুর জেলায়। সফরাজের বাড়ি থেকে কোনক্রমে পালিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই তরুণী। স্বামি সফরাজ হোসেনের সঙ্গে শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, দেওর সহ মোট সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ।