ফাইল ছবি

নয়াদিল্লিঃ  মহিলাদের কর্মীদের উৎসাহিত করতে নতুন আইনে তাদের মাতৃকালীন ছুটির মেয়াদ ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করা হলেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই আইনের কারণে দেশের প্রায় ১৮ লক্ষ মহিলা চাকরি হারাতে পারে বলে এক সমীক্ষাতে উঠে এসেছে। টিমলিজ সার্ভিসেস লিমিটেড এই নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। যেখানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সমীক্ষাতে বলা হয়েছে, নতুন আইনের কারণে মহিলারা চাকরিহীন হয়ে পড়তে পারেন। এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নতুন উদ্যোগতারা মহিলাদের কাজে নিতে অনুৎসাহিত হতে পারে। প্রকাশিত সমীক্ষায় দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান আর্থিক বছরে অর্থাৎ ২০১৯ সালের মার্চ নাগাদ ভারতের ১০টি সেক্টরে কর্মরত ১১ লাখ থেকে ১৮ লাখ মহিলা চাকরি হারাবেন। আর যদি ভারতের সব সেক্টরে এ হার বিবেচনা করা হয়, তবে পরবর্তী অর্থ বছর শুরু হওয়ার আগেই দেশে এক কোটি থেকে এক কোটি ২০ লাখ মহিলা চাকরি হারাবেন। যদিও ভারতে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সংখ্যা এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে। দেশে ২০১৬ সালে কর্মক্ষেত্রে মহিলার সংখ্যা ছিল মাত্র ২৪ শতাংশ। অথচ এক দশক আগেও এই সংখ্যা ছিল ৩৬ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতে শ্রমবাজার থেকে প্রায় দু কোটি মহিলা উধাও হয়েছে গিয়েছে। যা নিউ ইয়র্ক, লন্ডন ও প্যারিসের মোট জনসংখ্যার সমান। অন্যদিকে দেশে শ্রমবাজারে মহিলাদের সংখ্যা আরও বাড়লে ২০২৫ সাল নাগাদ দেশটির জিডিপি’তে বাড়তি সাতশ’ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যোগ করা সম্ভব হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিমান পরিবহন, তথ্য ও প্রযুক্তি ও আইটি সংশ্লিষ্ট সেবা, আবাসন বাণিজ্য, শিক্ষা, ই-বাণিজ্য, ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী তিনশ কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বড় এবং পূর্ণ পেশাদার কোম্পানি যেগুলোতে শক্তিশালী বিনিয়োগ এবং অনেক শ্রমিক কাজ করেন সেগুলোর মালিকরা নতুন এই আইনকে স্বাগত জানালেও ক্ষুদ্র বা মাঝারি আকারের কোম্পানি যারা অপেক্ষাকৃত কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করান তারা খরচ বিবেচনায় মহিলাদের নিয়োগ করার আগে অবশ্যই কয়েকবার ভাববে। এই ধরনের কোম্পানিগুলোতে দুই থেকে পাঁচজন মহিলা এক সময়ে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলে সেগুলো অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়।