প্রতীকী ছবি

লখনউ: কথায় আছে জুয়ার নেশা সর্বনাশা। এই নেশায় রসাতলে যায় সংসার। প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারতেও এই কথার উল্লেখ রয়েছে। এবার যোগী রাজ্যে ঘটল এমনই এক রোমহর্ষক নিন্দনীয় ঘটনা। স্বামীর জুয়ার নেশায় লাঞ্ছনার শিকার হলেন স্ত্রী। জুয়ায় হেরে সমস্ত টাকা খুইয়ে বন্ধুদের কাছে স্ত্রীকেই জুয়ায় বাজি রাখেন স্বামী! শর্ত ছিল, জুয়ায় হারলে জুয়ায় অংশগ্রহণকারী ওই ব্যক্তির বন্ধুরা তার স্ত্রীকে গণধর্ষণ করবে। এই সর্বনাশা বাজির শর্ত মত স্বামীর বন্ধুদের হাতে অবশেষে গণধর্ষণের শিকার হন মহিলা।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে যোগী রাজ্যের জৌনপুরে। মদ এবং জুয়া যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা আরও একবার প্রমাণিত হল। মদ্যপ অবস্থায় বন্ধুদের সঙ্গে জুয়ায় মত্ত হয়ে যান স্বামী। মদের নেশায় সর্বস্ব খুইয়ে শেষমেশ স্ত্রীকেই বাজি ধরে বসেন তিনি। মহিলার অভিযোগ, তাঁর স্বামীর বন্ধু অরুণ ও অনিল প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে জুয়া খেলতে আসে। সেই সঙ্গেই অনবরত চলে মদের আসর। ওইদিন তাদের কাছে তাঁকেই বাজি ধরেন স্বামী। জুয়ার আসরে হারের পরই উক্ত দুজন তাঁকে ধর্ষণ করেন।

জানা গিয়েছে, ঘটনার পরই নিজের মামার বাড়ি চলে যান মহিলা। স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে সেখানে গিয়েও হাজির হন ওই ব্যক্তি। স্বামীর কথায় শ্বশুরবাড়ি ফিরতেও রাজি হয়ে যান মহিলা। কিন্তু মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ফের বন্ধুদের দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করায় ওই ব্যক্তি! ঘটনার পর নিজেই থানায় গিয়ে স্বামীর নামে অভিযোগ জানান মহিলা। কিন্তু পুলিশ তাঁর অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই মুষড়ে পড়েন মহিলা। কিন্তু হাল না ছেড়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। শেষে আদালতের নির্দেশে জৌনপুর জেলার জাফারাবাদ থানার পুলিশ নির্যাতিতার অভিযোগ গ্রহণ করে। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

মহাভারতে আছে, কৌরবদের কাছে পাশায় হেরে দ্রৌপদীকে কৌরবদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন পাণ্ডবরা। ভরা সভায় লাঞ্ছিত হন দ্রৌপদী। বাস্তবের জমিতে দাঁড়িয়ে পুরাণের সেই কাহিনীই আরও একবার প্রমাণ করল জুয়ার নেশায় সংসার শেষ। আর নারীর অপমানে সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী।