প্রতীকী ছবি

লখনউ: ‘জলি এলএলবি টু’ সিনেমায় মোটা টাকার বিনিময়ে এক জঙ্গিকে ছেড়ে দিয়েছিলেন উত্তর প্রদেশের এক উচ্চ পদস্থ পুলিশ অফিসার৷ সিনেমার সেই কাহিনী এবার বাস্তবেই ঘটে গেল৷

মোটা টাকা ঘুষ নিয়ে খলিস্তানি জঙ্গিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে কাঠগোড়ায় উত্তর প্রদেশ পুলিশ৷ যার জেরে প্রবল অস্বস্তিতে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন৷ উত্তর প্রদেশ পুলিশের এক উচ্চ পদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে মোটা টাকা ঘুষ নিয়ে ওই জঙ্গিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে পাঞ্জাব পুলিশ৷ টাকার অঙ্ক নেহাত কম নয়৷ ওই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ৪৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে৷ ঘটনার পরই অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ৷

পাঞ্জাব পুলিশের অভিযোগ, ইন্সপেক্টর ডাইরেক্টর জেনারেল(এডিজি) পদের ওই আইপিএস অফিসার গোপী ঘ্যানশামপুরা নামে এক খলিস্তানি জঙ্গিকে ৪৫ লক্ষ টাকার ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে৷ অভিযোগের প্রমাণ হিসাবে একটি অডিও রের্কডিং উত্তর প্রদেশ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে পাঞ্জাব পুলিশ৷ অভিযোগ পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি ডিজিপি সুলখান সিং এবং মুখ্য স্বরাষ্ট্র সচিব অরবিন্দ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ৷ সেখানে তিনি অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেন৷ পরে সংবাদ মাধ্যমে ডিজিপি সিং জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে এডিজি পদের ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

এর আগে পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে শেষ বার গোপীকে শাহজাহানপুরে দেখা গিয়েছিল৷ তারপরেই সে রহস্যজনক ভাবে বেপাত্তা হয়ে যায়৷ এরমধ্যে পাঞ্জাব পুলিশ পিন্টো, অমরদীপ সিং এবং হরজিন্দর সিং নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে৷ তাদের জেরা করেই ওই অডিও ক্লিপিংয়ের কথা জানতে পারে পুলিশ৷ এরপরই ওই অডিও ক্লিপিংটি প্রমান হিসাবে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ তখনই পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে বলা হয় গোপীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য দু’পক্ষের মধ্যে একটি ডিল হয়৷ প্রথমে গোপীর কাছে তার মুক্তিপণ হিসাবে এক কোটি টাকা চান ওই আইপিএস অফিসার৷ পরে অবশ্য ৪৫ লক্ষ টাকার ডিল হয়৷ গত বছর নভেম্বর মাসে নাভা জেল থেকে ৬ জঙ্গি পালিয়ে যায়৷ এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত গোপী৷

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।