লখনউ: মানবতার দৃষ্টান্ত তৈরি করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ২০২৫ সালের মধ্যে সারা দেশকে যক্ষা মুক্ত করে তুলতে উদ্যেগ নিয়েছেন, তাঁর এই পদক্ষেপকে আরও একধাপ উপরে নিয়ে যেতে সাহায্য করল উত্তরপ্রদেশের বর্তমান রাজ্যপাল আনন্দিবেন প্যাটেল।

বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে প্রথম যক্ষা(টিবি) আক্রান্ত কোনও মেয়েকে দত্তক নিল রাজ্য সরকার। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যপাল আনন্দিবেন প্যাটেল যক্ষা আক্রান্ত একটি বাচ্চা মেয়েকে দত্তক নেন। ওই শিশুকে সুশ্রুশা করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার যাবতীয় দায়িত্বও তিনি নেন। জানা গিয়েছে, রাজ্যপালের এই পথকে অনুসরন করেই রাজভবনের বাকি সদস্যরা আরও ২১ জন যক্ষা আক্রান্তকে দত্তক নিয়েছেন।

রাজ্যপাল সহ রাজ্যসভার বাকি সদস্যরা এই যক্ষা আক্রান্ত বাচ্চাগুলিকে সঠিক চিকিৎসা,ওষুধ এবং উপযুক্ত পুষ্টিকর খাবার দিয়ে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন।

এই বিষয়ে রাজ্যপাল আনন্দিবেন জানিয়েছেন, ‘ এটা রাজ্য সরকারের দায়ীতের মধ্যে পড়ে। যাতে যক্ষা আক্রান্ত সকল শিশুরা সঠিক চিকিৎসা ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার পাই। এছাড়াও ওই বাচ্চা গুলি পড়াশুনোও শিখতে পারে সেই ব্যবস্থাও করা উচিত সরকারি কর্মীদের। জানা গিয়েছে, যে বাচ্চা গুলিকে দত্তক নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যসরকার তাঁরা সবাই রাজভবনের আশে পাশেই থাকে। ফলে এই বাচ্চা গুলিকে ঠিকমত দেখাশোনা করতে রাজ্য সরকারের বেশ সুবিধাই হবে।

রাজভবনের এক উচ্চপদস্থ অফিসার জানিয়েছেন, “যক্ষা রোগে আক্রান্তদের দত্তক নেওয়ার বিষয়টি প্রথমে রাজভবনের আশে পাশের এলাকা থেকে শুরু করা হলেও, ধীরে ধীরে সরকারের এই পদক্ষেপটিকে সব জায়গাতেই ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”

রাজ্যপাল জানিয়েছেন, “কোনও শিশুকে দত্তক নিতে বাধ্য করা হচ্ছে না! বরং এটি আমাদের সমাজের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য এর মধ্যে পড়ে । শুধু তাই নয় আমাদের সমাজে অনেক ধনী ব্যক্তি বাস করেন, তাঁদেরও উচিত এই অসহায় গরিব শিশু গুলির পাশে এসে দাঁড়ানো এবং কিছুটা হলেও অর্থ দিয়ে সাহায্য কর।” রাজ্য সরকার জানিয়েছেন,”আজকের এই ছোট ছোট পদক্ষেপ গুলো পরবর্তী কালে বড় কোনও লক্ষ্য পূরণে অনুপ্রেরনা জোগাবে।”

আনন্দিবেন প্যাটেল জানিয়েছেন, “রাজ্যের প্রতিটি কোনায় কোনায় গিয়ে সব মানুষের অভাব অভিযোগ শোনা সরকারেরে পক্ষে একা এ কাজ করা সম্ভব না।” তিনি বলেন এই ব্যাপারে সবার আগে সাধারন মানুষদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাঁরা এগিয়ে এলে গরীব মানুষের সমস্যার সমাধানে সাহায্য করলে সরকারেরও কাজে কিছুটা সাহায্য হয়।

আনন্দিবেন আরও বলেন, “রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের গরীব মানুষেরা সরকারের বিভিন্ন স্কিম থেকে বঞ্চিত থাকেন।” কারন, “তাঁরা সরকারী সাহায্যের ব্যাপারে কিছুই জানতে পারে না’। তিনি আরও বলেন,’ এটা আমাদের দায়িত্ব যে, সরকারের বিভিন্ন স্কিম গুলির আওতায় গরীব সাধারন মানুষ কে নিয়ে আসা’। তাঁরা সবাই যাতে সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাই সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। যক্ষা দূরীকরণ কর্মসূচীর দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা আধিকারিক ডঃ পিকে গুপ্তা বলেন, লখনউতেই প্রায় ১৪হাজার ৬০০ যক্ষা রুগী চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের কে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ৫০০ টাকা করে পুষ্টি ভাতা দেওয়া হবে।