লখনউ : ‘লোভ’ বড় বালাই। নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে মানুষ কত কিছুই না করে। তা বলে মনস্কামনা পূরণের সব পথ যে সবসময় সৎ হবে তা কিন্তু নয়। আমাদের চারপাশে এমন বহু মানুষ আছেন যারা নিজেদের শখ পূরণ করতে খারাপ কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেন না। এমনকি শখ পূরণের নেশায় নিজের সদ্যোজাত সন্তানকে বিক্রি করতেও বিন্দুমাত্র হাত কাঁপে না অনেক মানুষের।

বিষয়টি ভাবলে হয়ত আপনি শিউরে উঠবেন। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এটাও সম্ভব। লোভের ঠেলায় নিজের তিনমাসের পুত্র সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন খোদ মা-বাবা।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে, উত্তরপ্রদেশের(Uttarpradesh) তিরওয়া কোটওয়ালি থানার কানুজ এলাকায়। সদ্যোজাতের(Newborn Baby) খুড়তুতো দাদুর(Maternal Uncle) অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত মা-বাবাকে আটক করেছে।

এই বিষয়ে কোটওয়ালি(Kotwali Police) থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর(Police Inspector) শৈলেন্দ্র কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, সদ্যোজাতের খুড়তুতো দাদুর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, তারা স্থানীয় একজন ব্যবসায়ীর(Business Man) কাছে দেড় লাখ(One fifty lakh) টাকায় তাদের তিনমাসের ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ওই টাকা দিয়ে তারা একটি সেকেন্ড হ্যান্ড(Secpnd hand Car) চারচাকা গাড়িও কিনেছেন। যে গাড়ির কাগজপত্রগুলি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

অন্যদিকে এই ঘটনায় ওই ব্যবসায়ীর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, চলতি বছরের শুরুতে সন্তানের প্রতি ভালোবাসার উল্টো ছবি দেখছিল দেশবাসী। যা প্রমাণ করে দেয় একটা সন্তান মা বাবার হৃদয়ের কতখানি জায়গা জুড়ে থাকে।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের দৌলতে প্রকাশ্যে এসেছিল হায়দরাবাদের এক দম্পতির গল্প। যারা নিজের সন্তানকে দুরারোগ্য ব্যাধির হাত থেকে বাঁচাতে অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছিলেন।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গিয়েছিল, একমাত্র ছেলে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত। ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ২.১ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৬ কোটি টাকার কাছে। একজন গরিব মানুষের কাছে সারাজীবন পরিশ্রম করেও যা যোগাড় করা অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু নিজের দুধের শিশুকে বাঁচাতে সেই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন হায়দরাবাদের দম্পতি যোগেশ গুপা এবং তাঁর স্ত্রী ।

জানা গিয়েছে, যোগেশ গুপ্তার একমাত্র ছেলে ২ বছরের অয়ান্নাস বিরল জেনেটিক ডিসঅর্ডারে ভুগছে। চিকিৎসার জন্য ভরতি রয়েছে হাসপাতালে। বিরল এই রোগের চিকিৎসার জন্য একটি ইঞ্জেকশনের দাম প্রায় ১৬ কোটি টাকার কাছে। ডাক্তার মুখে যা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে হায়দরাবাদের ওই দম্পতির। কিন্তু নিজেদের একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে সর্বস্ব উজাড় করে দিলেও ১৬ কোটি তো দূরে থাক ১ কোটি টাকাও জোগার করা অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু তাঁরা হাল ছেঁড়ে দেননি। সেই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন ওই দম্পতি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.