লখনউ: চোলাই মদ দুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না উত্তরপ্রদেশের৷ ফের চোলাই মদ খেয়ে মৃত্যু হল উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে৷ ইতিমধ্যেই তিন জনের মৃত্যুর খবর এসেছে৷ পাঁচজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভরতি৷

মৃত বিজয়, সুমেরি লাল ও বিনোদের বাড়ি সাদানপুরে৷ পাশের পাঠানপুর গ্রামে তারা একসাথে বসে চোলাই মদ পান করে বলে পরিবার সূত্রে খবর৷ রবিবার সীতাপুরেও চোলাই মদ পান করে বিনোদ৷ অসুস্থ অবস্থায় বুধবার হাসপাতালেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে সে৷

আরও পড়ুন : উত্তরকাশীর জঙ্গলে ভয়াবহ দাবানল, ১৬৫টি দমকল মোতায়েন

গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা হলেও বিশেষ লাভ হয়নি৷ সীতাপুরের পুলিশ সুপার এল আর কুমার জানিয়েছেন যে দোকান থেকে ওই বিষাক্ত চোলাই বিক্রি করা হয়েছিল, তার মালিককে খোঁজা হচ্ছে৷ শুরু হয়েছে তল্লাশি৷ ওই মালিকের নাম কানহাইয়া কুমার৷ বারাবাঙ্কি এলাকার কোনও জায়গায় তার বাড়ি৷ তবে আপাতত সে পলাতক৷

দুদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের বারাবাঙ্কি জেলার রামনগরে চোলাই মদ খেয়ে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১০ জনের৷ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভরতি বেশ কয়েকজন৷ জি নিউজের সূত্র জানাচ্ছে যারা অসুস্থ অবস্থায় ভরতি রয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশংকাজনক৷ বেশ কয়েকজনকে লখনউয়ের ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে খবর৷

এর মধ্যে দু একজন নিজেদের দৃষ্টিশক্তি হারান৷ বারাবাঙ্কির এই ট্রমা সেন্টারে অসুস্থদের দেখতে যান কয়েকজন সমাজবাদী পার্টির নেতা৷ এরই মধ্যে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে জেলা আবগারি দফতরের আধিকারিককে সাসপেণ্ড করা হয়েছে৷ গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছেন উত্তরপ্রদেশের ডিজিপি৷ সাসপেণ্ড করা হয়েছে রামনগরের এসএইচও রাজেশ ও সার্কেল অফিসার পবন গৌতমকে৷
রাজ্যের আবগারি দফতরের মন্ত্রী জয় প্রতাপ সিং সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে জানান, ১ জেলা আধিকারিক, ৫ জন পুলিশ কর্মী ও ৩ জন হেড কনস্টেবলকে দ্রুত সাসপেণ্ড করা হয়েছে৷

আরও পড়ুন : শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় মমতাকে তুলোধনা শিবসেনার

উল্লেখ্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই চোলাই মদের কারণে অসম শতাধিক মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছে৷ রাজ্য সরকার মৃতের পরিবারদের দু’লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়৷ মর্মান্তিক ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ শোকপ্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

ঘটনার সূত্রপাত অসমের গোলাঘাট জেলায়৷ এখানকার এক চা বাগানে চোলাই মদ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শতাধিক চা শ্রমিক৷ শুরু হয় বমি৷ প্রচন্ড পেটে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি করা হয় তাদের৷ এরপর শুরু হয় মৃত্যু মিছিল৷ অসমর্থিত সূত্র অনুযায়ী চোলাই মদ খেয়ে ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ হাসপাতালে ভরতি আরও ৩৫০ জন৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ