মুম্বই: করোনা মহামারীতে বিধস্ত দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে উদ্বেগ আর চোরা আশঙ্কা। এই অবস্থায় করোনাতঙ্ক সন্ধান পাইয়ে দিলো ২৬/১১ হামলার এক প্রত্যক্ষদর্শীকে।

করোনাতঙ্কের জেরে চারিদিকে শুধুই ত্রাহিত্রাহি রব। ভুখা পেটের জ্বালায় অসহায় সাধারণ গরীব মানুষেরা। ফুটপাত গুলিতে দুমঠো অন্নের জন্য গৃহহীন মানুষদের কাতর আর্তি।

এমনই কঠিন পরিস্থিতিতে খোদ মুম্বইয়ের ফুটপাথ খোঁজ মিলল ২৬/১১ এর জঙ্গি হামলার ঘটনার অন্যতম এক প্রত্যক্ষদর্শীর।

বয়সের ভারে জীর্ণ দশা শরীরের। বাড়ি তথা প্রিয়জনদের কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে এখন তার নির্দিষ্ট ঠিকানা ঝাঁ চকচকে মুম্বইয়ের ফুটপাথ। পথচলতি মানুষের দয়া দাক্ষিণ্যেই কোনও রকমে দিন গুজরান করছে বছর ৬০ এর হরিশচন্দ্র শ্রীবর্ধনকর।

তিনিই হলেন, গত ২৬/১১এর মুম্বই হামলার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী। শুধু তাই নয়, আজমল কাসভের বুলেটের আঘাতে আহতও হয়েছিলেন তিনি।

বয়সের ভারে চামড়া কুঁচকে গেলেও সেদিনের ঘটনার স্মৃতি আজও টাটকা তাঁর মনে। যদিও তার বর্তমান ঠিকানা এখন রাস্তাঘাটই।

শনিবার সকালে তাকে প্রথম ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখতে পান মুম্বইয়ের এক দোকানি ডুসিজা। একদিন সকালে তিনি তাঁর দোকানের সামনে শুয়ে থাকতে দেখেন হরিশচন্দ্রকে। এরপর তাকে ডেকে তোলেন ওই দোকানি। দেওয়া হয় জলখাবার। জামাকাপড় নোংরা থাকায় তা পরিস্কারের জন্য হরিশচন্দ্রে স্নানের ব্যবস্থাও করেন তিনি।

এরপর ধীরেধীরে দোকানিকে,সমস্ত ঘটনার কথা খুলে বলতে থাকেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী। এমনকি তিনি আগে যে এলাকায় থাকতেন সেই এলাকায় তার বাড়ির নাম-ঠিকানাও শোনা যায় তার মুখে।

যদিও পরিবারের কাছে এখন অবাঞ্ছিত তিনি। ফলে বাড়ির লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা হরিশচন্দ্রকে আর ঘরে ফিরিয়ে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, তাকে আশ্রমে রেখে আসার নিদান দেন ওই বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা।

অগত্য উপায় না দেখে মুম্বইয়ের একটি এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ডি সৌজা। খবর যায় পুলিশেও।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় মুম্বই পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে ফের তার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। যদিও দুঃখ জনক বিষয় হল অসহায় বাবাকে ঘরে তুলতে নারাজ পুত্র। ফলে কোনও উপায় না দেখে শেষপর্যন্ত পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় তার সেবা শুশ্রূষা করে হরিশচন্দ্র শ্রীবর্ধনকরকে একটি আশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ