প্রত্যেক বছরের মত এবার বরফ গলতেই খুলে দেওয়া হয়েছে কেদারনাথের দরজা। এটি হিন্দুদের এক পবিত্র তীর্থস্থান৷ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩হাজার ৫৮৩মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই মন্দির৷

ভারতের উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল পর্বতে মন্দাকিনী নদীর তীরে অবস্থিত এই শিব মন্দির৷ তবে, শীতকালে কেদারনাথ মন্দিরটি বরফে ঢাকা পড়ে যাওয়ায় মূর্তিগুলিকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়৷ ছ’মাস বাদে ফের ঘরে ফেরেন কেদারনাথ। তখনই শুরু হয় পুজো। বহু পর্যটক ও তীর্থযাত্রী ভগবান দর্শনে যান।

কথিত আছে, আদি শঙ্কর বর্তমান স্থানে মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন৷ একটি বিখ্যাত জ্যোতির্লিঙ্গের জন্যই এই মন্দিরটি বিখ্যাত৷ পাণ্ডবেরা এখানে তপস্যা করেই শিবকে তুষ্ট করার জন্য এখানে শিবের পূজা করেন৷ যদিও মহাভারত মহাকাব্যেও এই মন্দিরটির উল্লেখ রয়েছে৷

কেদারনাথ মন্দির সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য অনেকেরই অজানা:

১) কেদারনাথ মন্দিরে একটি ত্রিভুজাকৃতি জ্যোতির্লিঙ্গ পূজিত হয়৷

২) কেদারনাথ মন্দিরটি একটি মন্দির নয়৷ পরপর পাঁচটি মন্দির একসঙ্গে রয়েছে সেখানে৷ কথিত আছে, শিবের আলাদা আলাদা পাঁচটি অঙ্গ এখানে আবির্ভূত হয়েছিল৷ সেখানেই তৈরি হয় পাঁচ মন্দির, যা পঞ্চ কেদার নামে পরিচিত। এই পাঁচটি মন্দির হল- কেদারনাথ, রুদ্রনাথ, কল্পেশ্বর, টুঙ্গানাথ, মধ্যমাহেশ্বর৷

৩) তীব্র শীতের জন্য মন্দিরটি কেবল এপ্রিল মাসের শেষ থেকে কার্তিক পূর্ণিমা অবধি খোলা থাকে৷ শীতকালে কেদারনাথ মন্দিরের মূর্তিগুলিকে ছ’মাসের জন্য চলে যায় রুদ্রপ্রয়াগে। সেখানেই হয় পূজা৷

৪) মহাভারত মহাকাব্যের কাহিনী অনুযায়ী, বেদব্যাসের নির্দেশে কেদারনাথে শিবকে তুষ্ট করার জন্য পূজা করেন পাণ্ডবেরা৷ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে তাদের সমস্ত পাপ দূর করার জন্যই তার কেদারনাথে শিবের পূজা করা হয়েছিল। শেষ অবধি তাদের পুজোয় ভগবান তুষ্ট হন৷