শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : পঞ্চম দফার নির্বাচনেও নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেলো। প্রশ্ন উঠলো কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। কেননা বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকার পরও সকাল থেকে বিভিন্ন বুথে কী করে অবৈধ জমায়েত, ইটবৃর্ষ্টি , মারধর হচ্ছে সেটাই ভাবাচ্ছে রাজ্যের মানুষকে। আর এই কারণেই প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পূর্ব ঘোষণা নিয়ে।

নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে সল্টলেকের শান্তিনগর-এলাকায় তৃণমূল- বিজেপি সংঘর্ষ হয় পঞ্চম দফার নির্বাচন চলাকালীন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে এক মহিলাকে টেনে রাস্তায় ফেলে মার্ দেওয়া হয়। অভিযোগের তির বিজেপি-র দিকে। বিধাননগরের বিজেপি-র প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত ও তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু এই ঘটনায় পরস্পরের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন। বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকরা পাথর ছুড়তে থাকে। ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কী করে বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে অবৈধ জমায়েত হতে পারলো সেটাই প্রশ্ন। বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে বহুক্ষণ পরে মাইক ব্যবহার করে উত্তেজিত জনতাকে সতর্ক করে বলেন হয় বাড়ি যান না হলে ভোট দিতে চলে যান। এর পর কথা না শুলনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ এলাকা স্যানিটাইজ করে।

বর্ধমানের মেমরিতে বিজেপি-র পোলিং এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেন প্রিসাইডিং অফিসার। বিজেপি-র অভিযোগ, এই প্রিসাইডিং অফিসার তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে। এদিন শান্তিপুরের হরিপুরে বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতির বাড়ির কার্নিশে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বোমা রাখার অভিযোগ করা হয়। মিনাখায় সকালে বোমাবাজি হয়েছে। কল্যাণীর গয়েশপুর, সগুনা প্রভৃতি জায়গায় বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এসেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

প্রশ্ন হচ্ছে পঞ্চম দফার নির্বাচনে ৪৫টি বিধানসভার জন্য ৮৫৩.০৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১৫ হাজার ৭৮৯টি বুথের জন্য এর পাশাপাশি রয়েছে আরও ৩২ হাজার ৬৭২জন রাজ্য পুলিশ। বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা রয়েছে। তার পরেও বুথ সংলগ্ন এলাকায় সমানে চলছে অবৈধ জমায়েত, মারামারি, হুমকি, ভয় দেখানো, বাড়িতে বোমা রাখার মতো ঘটনা। এটাই যদি হবে তাহলে নির্বাচন কমিশন কী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলো সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে অবৈধ জমায়েত সরিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রেফতারের অধিকার আছে। তাহলে কেন এই জনতাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না? গ্রেফতার করলে একটা দৃষ্টান্ত তৈরী হতো। তাতে কিছুটা হলেও এই অবৈধ জনতার বুথের সামনে জমায়েত কমতে পারতো। তবে আশ্চর্যের ঘটনা হচ্ছে কোনও জায়গায় গোলমাল হওয়ার পর সেটা সংবাদ মাধ্যমে দেখানোর পর কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। তাই প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী এনে রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রেখে নির্বাচন করার যে প্রয়াস কমিশন নিয়েছিল সেটা কি বিফলে গেলো?

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.