নয়াদিল্লি: থেমে গেল লড়াই৷ হাসপাতালে মারা গেলেন উন্নাও নির্যাতিতা৷ হায়দরাবাদে যেদিন এনকাউন্টারে ধর্ষকদের শেষ করে দেওয়া হল, সেদিনই লড়াই থেমে গেল উন্নাও-এর ধর্ষিতার৷

আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে উন্নাও গণধর্ষণ কাণ্ডের অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পেয়েই ধর্ষিতাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ধর্ষিতাকে ভর্তি করানো হয় লখনউয়ের একটি হাসপাতালে। সেখান থেকে তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি তাঁকে৷ শুক্রবার রাত ১১.৪০ মিনিটে লড়াই থেমে যায়৷ মারা যান উন্নাও-এর নির্যাতিতা৷

সফদরজন হাসপাতালের বার্ন ও প্ল্যাস্টিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক সলভ কুমার বলেন, ‘রাত ১১.১০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওই তরুণী। তাঁকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি৷ ১১.৪০ মিনিটে মারা যায়৷’

উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে গত মার্চে পাঁচজন মিলে ধর্ষণ করে ওই মহিলাকে। ধর্ষিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করে। বাকি দু’জন এখনও ফেরার। কিন্ত অভিযুক্তদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়৷ জেল থেকে বেরিয়ে দুই অভিযুক্ত বৃহস্পতিবার তাদের বন্ধুদের নিয়ে ধর্ষিতার গ্রামে যায়।

ওই সময় ধর্ষিতা ছিলেন রেল স্টেশনের কাছে। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মা-বাবার সঙ্গে ট্রেনে রায়বঢ়েলীতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগে স্টেশনে গিয়ে তাঁরা ধর্ষিতাকে জোর করে টেনে নিয়ে গ্রামের বাইরে একটি ধানখেতে নিয়ে যায় তারা। সেখানে ধর্ষিতার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়৷ তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ সেখান থেকে লখনউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান নির্যাতিতাকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ তাতেও বাঁচানো সম্ভব হল না৷

গত মার্চে যে দু’জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন ২৩ বছর বয়সি ওই তরুণী, তাদের একজন শিবম ত্রিবেদী জেলে ছিল৷ কিন্তু পাঁচ দিন আগেই জামিনে ছাড়া পায় শিবম। অন্য অভিযুক্ত শুভম ত্রিবেদীকে পুলিশ এখনও ধরতে পারেনি। কিন্তু সেদিন শিবমের সঙ্গেই ছিল শুভম।

পুলিশের কাছে দায়ের করা এফআইআর-এ ধর্ষিতা লিখেছেন, ‘প্রথমে আমার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল শিবম। কিন্তু একদিন শিবম আমাকে ধর্ষণ করে। তার ভিডিও তুলে রাখে। আমি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে আমাকে শাসাতে থাকে৷ শুধু তাই নয় সে ভিডিও সর্বত্র ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকিও দেয়। ওদের ভয়ে গত বছরের শেষের দিক থেকেই আমি রায়বঢ়েলীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে শুরু করি।’ কিন্তু শুক্রবার রাতেই উন্নাও-এর নির্যাতিতার সব লড়াই থেমে যায়৷