প্রতীকী ছবি

উন্নাও: কর্তব্যে গাফিলতির জন্য উন্নাও জেলার ষ্টেশন হাউস অফিসার সহ ছয়জন পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এর আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এই বার্তা দিতে চাইলেন সাধারণের কাছে।

হায়দরাবাদ দিশা কাণ্ডে অভিযুক্তদের পুলিশি এনকাউন্টারে মারা যাওয়ার ঘটনা দৃষ্টান্ত হয়ে গিয়েছে এরই মধ্যে। বিদ্বজ্জনেরা পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গেলেও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষ। যা একপ্রকার নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে সকলে। এই কাণ্ডের পরে পুলিশের পাশে দাঁড়াচ্ছে আর এক নির্যাতিতার পরিবার। ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া নির্ভয়া কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণীর মাও দাঁড়িয়েছেন পুলিশের পাশে। সমর্থন করেছেন পুলিশের পদক্ষেপকে।

উন্নাও কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণীর মারা যাওয়ার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে সেখানকার প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সমবেদনা জানিয়েছেন নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারকে। জানিয়েছেন খুব দ্রুত এই মামলার শুনানি হবে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে। এছাড়াও নেওয়া হবে কঠিন পদক্ষেপ।

উন্নাওয়ের সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ বিক্রান্ত বীর সেখানকার এসএইচও অজয় ত্রিপাঠি ছয়জন ইন্সপেক্টর সহ কিছু কনস্টেবলের বিরুদ্ধে কর্তব্য গাফিলতি করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রায়বেরিলিতে ধর্ষণ কাণ্ডের শুনানিতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময়ে নির্যাতিতা তরুণীর উপরে হামলা করে পাঁচজন। তাদের মধ্যে দুই ভাই ছিল প্রধান অভিযুক্ত। যারা কয়েকদিন আগে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছিল। রাস্তাতেই তরুণীর উপরে আক্রমণ করে চূড়ান্ত অত্যাচার করে। অবশেষে ওই তরুণীর গায়ে তেল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ওই অবস্থাতে এক কিলোমিটার দৌড়ে প্রানভিক্ষার আবেদন করাতে স্থানীয়রাই প্রাথমিক ভাবে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়াতে তাঁকে উড়িয়ে আনা হয়েছিল দিল্লিতে। সেখানেও শুক্রবার মারা যান ওই তরুণী। নির্যাতিতার ভাই দোষীদের একমাত্র মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি জানিয়েছিলেন তার বোনও ওই অভিযুক্তদের মৃত্যু দেখতে চেয়েছিল।

রবিবারে ওই তরুণীর দেহ পরিবারের উপস্থিতিতে এবং কড়া নিরাপত্তায় সমাধিস্থ করা হয়েছে। তরুণীর অন্তিম যাত্রায় সঙ্গ দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ থেকে আমলারা।

এর আগে ওই নির্যাতিতা তরুণীর বোন দাবি জানিয়েছিলেন যতক্ষন না মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁদের সঙ্গে দেখা করে কি পদক্ষেপ নেবেন সে বিষয়ে না জানাচ্ছেন তারা দেহ সমাধিস্থ করবেন না। এছাড়াও তিনি সরকারের তরফ থেকে একটা চাকরির দাবিও করেছেন।

উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের তরফ তঘেকে জানানো হয়েছে নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে তাদের তরফ থেকে ওই তরুণীর পরিবারকে সব রকম সাহায্য করা হবে।

শনিবার সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ ওই পরিবারকে দেওয়া হবে। এছাড়াও ওই মামলার যাতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে শুনানি হয় সে বিষয়েও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন নারী নিরাপত্তা নিয়েও। তরুণীকে জীবিত অবস্থাতে ন্যায়বিচার দেওয়া গেল না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। বারবার যোগী রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসায় বড়সড় প্রশ্নের মুখে সেখানকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা।