নয়াদিল্লি: শুক্রবার উন্নাও কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণীর মারা যাওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা।সমাজবাদী পার্টির নেতা তথা উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব দলের দুই শীর্ষ স্থানীয় নেতা নরেশ উত্তম প্যাটেল এবং রাজেন্দ্র চৌধুরীর সঙ্গে রাজ্য বিধানসভা ভবনের সামনে ন্যায়বিচারের দাবিতে শুরু করেছেন ধর্না।

সাংবাদিকদের সামনে অখিলেশ জানিয়েছেন, এটি সবথেকে জঘন্যতম ঘটনা। বিজেপি সরকারের অধীনে এটি প্রথম ঘটনা নয়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হবে কিন্তু তিনি একটি মেয়ের জীবন বাঁচাতে পারেননি। সরকারের অক্ষমতার দিকেও আঙুল ত্তুলেছেন তিনি।

সমাজবাদী পার্টির এই নেতা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিবেরও পদত্যাগের দাবি করেছেন। আরও জানিয়েছেন, উন্নাও কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণী তখনই ন্যায়বিচার পাবে যখন এই দুজনে পদত্যাগ করবেন। নির্যাতিতা তরুণীর জন্য রবিবার রাজ্য জুড়ে তাঁর দল শোকসভা আয়োজন করবে।

ইতিমধ্যে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য উন্নাওতে গিয়েছেন। তিনিও সেখান থেকে উত্তর প্রদেশের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মন্তব্য করেছেন রাজ্যতে বিচার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন” এটা আমাদের অক্ষমতা আমরা নির্যাতিতা তরুণীকে ন্যায়বিচার দিতে পারলাম না। কিন্তু তাঁর সঙ্গে এটাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের আইন কানুনের পরিস্থিতি।”

এছাড়াও তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন নারী নিরাপত্তার দিকে। নির্যাতিতা তরুণীর উপরে আক্রমণের বিষয় নিয়েও তোপ দেগেছেন। কেন ওই তরুণীকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হল না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এছাড়া যে অফিসার ওই তরুণীর অভিযোগ নিতে চাননি তাঁর বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও জানতে চান তিনি। যোগী রাজ্যতে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নিরাপত্তার জন্য মেয়েদের নিজের হাতে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত ও দিয়েছেন তিনি।

২৩ বছর বয়সী ওই তরুণী আদালতে নিজের মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময়ে আক্রমণের শিকার হন। চূড়ান্ত অত্যাচার করে তাঁর গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তারপরে ওই অবস্থাতে দৌড়তে দৌড়তে প্রানভিক্ষা চেয়েছিলেন। স্থানীয়রাই তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে দিল্লি উড়িয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু হল না শেষরক্ষা। ডাক্তাররা জানিয়েছেন হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি মারা যান।