তিমিরকান্তি পতি, বাকুঁড়া: করোনাময় পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দু’মাসের ‘লকডাউনে’র পর ‘আনলক ওয়ান’ পর্বের শুরুতেই কিছুটা আশার আলো দেখছেন বাঁকুড়ার কৃষিজীবি মানুষ।

জেলার বিষ্ণপুরের বাঁকাদহ এলাকায় প্রচুর পরিমানে সবজি উৎপাদিত হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে সেই সবজি পাড়ি দেয় কলকাতা সহ ভিন রাজ্যে। কিন্ত লকডাউন পরিস্থিতিতে সেই পথ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছিলেন এখানকার একটা বড় অংশের কৃষিজীবি মানুষ। ‘আনলক-ওয়ান’ পর্বের শুরুতেই সেই সমস্যা কিছুটা হলেও মিটতে চলেছে।

মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, নানান ধরণের টাটকা সবজির পসরা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন চাষীরা। গত দু’মাস ধরে চাহিদার অভাবে উৎপাদিত সবজির দাম ছিল না, চাহিদা বাড়ায় এদিন কিছুটা হলেও দাম বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চাষীরা জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আমফানে ব্যাপক ক্ষতির পরেও পাইকারী ক্রেতারা এলাকায় আসতে শুরু করায় আশার আলো দেখছেন বাঁকাদহ এলাকার কৃষিজীবি মানুষ। গত কয়েক দিন আগেও যেখানে নাম মাত্র মূল্যে সবজি বিক্রি করতে হয়েছে, এদিন তা বেড়ে দাড়িয়েছে কেজি প্রতি করলা- ২৫ টাকা, বরবটি- ২২ টাকা, লাউ-২০ টাকা, কুঁদরী-৩ টাকা, পটল-২৫ টাকা, কচু-১৮ টাকা।

দীর্ঘ সময় পরে বর্তমানে হুগলি, দুর্গাপুর, খড়গপুর-সহ এরাজ্যের বিভিন্ন অংশের পাইকারী ক্রেতা বাঁকাদহে আসছেন। তবে ভিন রাজ্যের পাইকারী ক্রেতা না এলে সবজির দাম বাড়বে না বলেই সংশ্লিষ্ট চাষীরা জানিয়েছেন। আবারও কবে সব কিছু আগের মতো স্বাভাবিক হবে, কবে ভিন রাজ্যের ক্রেতাদের লরি এসে থামবে বাঁকাদহে। বাড়তি কিছু রোজগারের আশায় এখন সেদিকেই তাকিয়ে এখানকার একটা বড় অংশের কৃষিজীবি মানুষ।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প