স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের আগে আরও একবার জঙ্গলমহলবাসীর মন জয়ের চেষ্টা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আদিবাসীদের দাবি মেনে ঝাড়গ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতে চলেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই দরপত্র আহ্বান করেছে পূর্ত দফতর।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের উপর। একদা মাওবাদী প্রভাবিত জঙ্গলমহল এই পশ্চিমাঞ্চলেরই অন্তর্গত। অথচ এ বার লোকসভা ভোটে সেই পশ্চিমাঞ্চলেরই কেবল ঘাটাল ছাড়া বাকি সব ক’টি আসন হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের।

বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরে যথাক্রমে হেরেছেন শাসক দলের দুই হেভিওয়েট নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও মানস ভুঁইয়া। শুধু লোকসভা নয়, পঞ্চায়েত ভোটেও জঙ্গলমহলে খারাপ ফল হয়েছিল তৃণমূলের৷

তৃণমূলের থেকে কেন মুখ ফিরিয়ে নিল জঙ্গলমহল? রাজ্যে পালাবদলের পর প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে জঙ্গলমহলে। যে জঙ্গলমহলে কান পাতলেই শোনা যেত গুলির আওয়াজ, বোমার শব্দ। বাতাসে ভাসত বারুদের গন্ধ, সেই জঙ্গলমহল এখন শান্ত। তবু সাত বছরের মধ্যেই শাসক দলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল জঙ্গলমহলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। কেন এই পরিবর্তন জঙ্গলমহলের, কোথায় ঘাটতি তৃণমূল সরকারের, তা জানতে দলে ময়নাতদন্ত করেছে তৃণমূল। হয়েছে সাংগঠনিক স্তরে রদবদল৷

এবার জঙ্গলমহলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরেই সেখানকার মানুষ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছিল।

পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, প্রায় সাড়ে ২০ কোটি টাকা ব‍্যয়ে তৈরি হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির জন্য সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ২ বছর। এই সময়কালের মধ‍্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শেষ করতে হবে। দরপত্র অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হস্টেল, স্টুডেন্টস অ‍্যাক্টিভিটি সেন্টার, গেস্ট হাউজ, গ্রন্থাগার ভবন সবই তৈরি করা হবে।