কলকাতা: একদিন আগেই রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে বিজেপির ‘মুখপাত্র’ বলে তির্যকভাবে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে সমান্তরালভাবে সরকার চালানোর অভিযোগও করেন তিনি। মুখমন্ত্রীর এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল।

শনিবার মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজের রজতজয়ন্তী বর্ষ উদযাপনে হাজির হন রাজ্যপাল। সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে রাজ্যের অধীনে থাকা সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তিনি। কিন্তু, সরকারের তরফ থেকে বিশ্বভারতী বাদে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যরা সরকারের চাপের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ জানান তিনি।

এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আচার্য হিসাবে আমি লক্ষ্য করেছি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাই সরকারের তরফ থেকে চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। আমি আগেই জানিয়েছিলাম সরকার এবং আচার্য দু’টি পদই সাংবিধানিক এবং তা আইন দ্বারা গৃহীত। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে মন্দির হিসাবেই বিচার করা উচিত যাতে সেখানকার পড়ুয়ারা শান্তিতে নিজ নিজ বিষয়ে অধ্যয়ন করতে পারে। আর এই শান্তি ফিরিয়ে আনাই আমার প্রধান লক্ষ্য।’

রাজ্যপালের এই মন্তব্য প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘সাংবিধানিক পদে থাকার দরুন ওনার অনেক ক্ষমতা। কিন্তু, ক্ষমতা থাকলে তা প্রয়োগের ব্যাপারে সংযমী হতে হয়। আমাদের সরকারেরও অনেক ক্ষমতা কিন্তু তাই বলে আমরা ক্ষমতার অপব্যবহার করি না। নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করলে জনগণ মেনে নেবে না।’

রাজ্যপাল সমান্তরালভাবে নিজের সরকার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাজ্যপাল জানান, ‘আমার আর মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ হয় মুখোমুখি নয়ত অন্য কোনও মারফতে। কিন্তু আমাকে লিখিত ভাবে বা অন্য কোনও ব্যক্তি মারফত জানানো হয়নি। যদি মুখ্যমন্ত্রীর এই বিষয়ে কোনও অভিযোগ থাকেন তিনি সরাসরি আমাকে চিঠি লিখুন অথবা আমাকে জানান।’
রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী সংঘাত নিয়ে মুখ খোলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে খাঁচায় আটকে রাখতে চাইছেন। রাজ্যপাল একাধিকবার হেলিকপ্টার চাইলেও দেয়নি রাজ্যসরকার। এত মেলা উৎসবে টাকা খরচ না করে সঠিক জায়গায় টাকা খরচ করুন।’

মুর্শিদাবাদের এই অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে একটি হেলিকপ্টার চেয়েছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু, সরকারের তরফ থেকে নেতিবাচক ইঙ্গিত পেয়ে গাড়িতেই ফারাক্কার উদ্দেশে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।