কলকাতা: রাজ্যপাল বিরোধিতায় এবার সরব রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। রীতিমতো সংগঠন গড়ে আচার্যের বিরুদ্ধে সওয়াল শুরু উপাচার্যদের একাংশের। একজোট হলেন রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। ‘উপাচার্য পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেছেন তাঁরা। সংগঠনের সভাপতি হয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাশ। সংগঠনের সম্পাদক উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মপ্রকাশ করে ‘উপাচার্য পরিষদ’। উপাচার্যদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে আচার্যের অযাচিত হস্তক্ষেপ রুখতেই একজোট হয়ে তাঁরা এই সংগঠন গড়েছেন। সংগঠন গড়েই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন উপাচার্যরা।

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের রাজভভনে বৈঠকে ডেকেছিলেন আচার্য তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনও উপাচার্যই রাজ্যপালের ডাকা বৈঠকে যোগ দেননি। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের তরফএ ইতিবাচক সাড়া না পাওয়াতেই রাজ্যপালের বৈঠক এড়িয়েছেন উপাচার্যরা। উপাচার্যদের গরহাজিরা প্রসঙ্গ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। উপাচার্যদের রাজ্য সরকারের হাতের পুতুল বলেও কটাক্ষ করেছেন রাজ্যপাল।

নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে যাদবপুরের পড়ুয়াদের প্রবল বিক্ষোভের মুখএ পড়তে হয় রাজ্যপালকে। এমনকী রাজ্যপাল বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে বেরোনর পরই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন পড়ুয়ারা। সেই ইস্যুতেও রাজ্য সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন রাজ্যপাল। বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্য সরকারের মদতে পরিচালনা করা হয় বলেও অভিযএাগ তোলেন জগদীপ ধনখড়। সংগঠন গড়ে রাজ্যপালের সেই অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলেছেন উপাচার্যরা। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কোনও কাজেই রাজ্য সরকার কখনও হস্তক্ষেপ করে না বলে সওয়াল করেছেন উপাচার্যদের একাংশ।

রাজ্য সরকারের ভূমিকার পক্ষে সওয়াল করার পাশাপাশি রাজ্যপালকে একহাত নিয়েছেন উপাচার্যদের একাংশ। জগদীপ ধনখড় রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজেও হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন উপাচার্যরা।