বড় শক্তিশালী ব্যাংকগুলির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে দুর্বল ব্যাংকে ৷ এই নীতি নিয়ে এবার সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে ১০টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চারটি ব্যাংকে পরিণত করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র৷ যারফলে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অফ কমার্স এবং ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়াকে৷

আর এই ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া হল এমন একটি ব্যাংক যার ইতিহাসে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির ব্যাংক ব্যবসার কাহিনি৷ এবার এই সংযুক্তিকরণের ফলে কলকাতা সদর দফতর বিশিষ্ট এই ব্যাংকটি অস্তিত্ব বিপন্ন হবে বলেই মনে করছে বিভিন্নমহল৷ কারণ সংযুক্তিকরণের পরে যে ব্যাংকটি গঠিত হবে সেই ব্যাংকের সদর দফতর আদৌ কলকাতায় থাকবে না বলে আশংকা করা হয়েছে৷

এই ব্যাংকটিক সঙ্গে পরাধীন ভারতের অবিভক্তক বাংলার ব্যাংক ব্যবসার একটা ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে ৷ ১৯১৪ সালে নরেশচন্দ্র দত্ত গড়েন কুমিল্লা ব্যাংকিং কর্পোরেশন ৷ এর কিছুদিন বাদে ১৯১৮ সালে জেসি দাশ বেঙ্গল সেন্ট্রাল ব্যাংক স্থাপন করেন৷ আর ১৯২২ সালে এলবি দত্ত কুমিল্লা ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ১৯৩২ সালে ডিএন মুখোপাধ্যায় হুগলি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন ৷ স্বাধনীতার পর ১৯৫০ সালে এই চারটি ব্যাংক মিলে গিয়ে তৈরি হয় ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া৷

পরবর্তীকালে ১৯৬১ সালে অবশ্য কটক ব্যাংক ও তেজপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে মিশে যায়। আর ১৯৬৯ সালের ১৯জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ব্যাংক জাতীয়করণের কর্মসূচির ফলে আরও ১৩টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মতো ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার জাতীয়করণ হয়৷ ১৯৭১ সালে ইউবিআই হিন্দুস্তান মার্চেন্টাইল ব্যাংক এবং ১৯৭৬ সালে নারাঙ্গ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া অধিগ্রহণ করে।