পাটনা: ক্যায়সা মারা এন্ট্রি ইয়ার দিল মে বাজি ঘন্টি…! এমনই হতে পারত। এক ঝলক দেখলে মনে হবে, প্রেমিকার মান ভাঙানোর জন্য অসহায় প্রেমিকের করুণ চেষ্টা।

প্রকাশ্যে কিশোরী, যুবতীর পায়ে ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন প্রার্থী। রাস্তার উপরেই সটান পা ধরে টানাটানি। সঙ্গে করুণ আর্তি- ‘হামে ভোট দিজিয়ে হান্ড্রেড পার্সেন্ট সিকিউরিটি গ্যারান্টি।’ পা ধরে টানাটানি করতেই লজ্জা পান যুবতী। তবে প্রার্থী নাছোড়বান্দা। কোনওরকমে ছাড়া পেতে যুবতী রাজি হন ওই প্রার্থীকে ভোট দিতে। সমর্থকরা হই হই করে ওঠেন। নেতার নামে জিন্দাবাদ ধ্বনি শুরু হয়। মিশন সাকসেস। লাফ দিয়ে উঠে পড়েন প্রার্থী।

এবার তাঁর লক্ষ্য এক কিশোরী। মায়ের সঙ্গে মন্দিরে পুজো দিতে এসেই বেখাপ্পা সিচুয়েশনে পড়ল বেচারি। প্রার্থী আবার ঝাঁপ দিলেন। এবার কিশোরীর পা ধরে টানাটানি। তার মা সব দেখে বাকরুদ্ধ। ভোট পাওয়ার গ্যারান্টি আদায় করে তবেই কিশোরীর পা ছাড়লেন প্রার্থী।

বয়স্ক, কমবয়সী, বিশেষ করে মহিলারা এখন বিহারের রাস্তায় রাস্তায় পা বাঁচাতে ব্যাস্ত। কখন কোন দিক থেকে কোন প্রার্থী পা ধরে টানাটানি শুরু করেন, সেই চিন্তা রয়েছে।

নির্বাচনের প্রথম দফা অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর। তার আগেই প্রচারের ঝড় তুলতে প্রার্থীরা যে যেখানে পারছেন পায়ে ঝাঁপ দিচ্ছেন। এতে প্রশ্ন উঠছে শাসক এনডিএ ও বিরোধী মহাজোটের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ১০ লক্ষ এবং ১৯ লক্ষ চাকরির নিশ্চয়তা নিয়েই।

বেরোজগারির শীর্ষে থাকা বিহারে কর্মসংস্থানের জন্য সব পক্ষ লক্ষ লক্ষ চাকরি দেওয়ার দাবি কতটা যুক্তিরপূর্ণ তা নিয়ে চলছে চর্চা। অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতিশ্রুতির কয়েক শতাংশ পূরণ করার ক্ষমতা নেই কোনও পক্ষের। তার পরেও যেভাবে চাকরি দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি চলছে তাতে ভোটারদের মধ্যেই প্রশ্ন। ফলে প্রার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই ঝাঁপ দিচ্ছেন।

শুধু শহরাঞ্চলে নয়, বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকেও প্রার্থীদের বিভিন্ন অদ্ভুত আচরণ উঠে আসছে। কেউ প্রচারে বেরিয়ে কাউকে আচমকা জাপটে ধরে কান্নাকাটি করছেন, কেউ কোলে তুলে নাচতে শুরু করছেন। আর কিশোরী যুবতী ভোটার দেখলেই পায়ে ঝাঁপ। সেই ছবি সমর্থকরা গর্ব করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়ছেন সঙ্গে সঙ্গে। দুনিয়া জুড়ে ভাইরাল হচ্ছে নেতাদের এন্ট্রি মারার মারাত্মক স্টান্ট।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।